kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন তদন্ত কমিটির সদস্যদের একই বক্তব্য

রাসায়নিকের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাসায়নিকের কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের কেউই আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তবে রাসায়নিকের কারণেই যে আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সে ব্যাপারে সবাই একমত।

তদন্তদলের সদস্যরা গতকাল সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শুরু করেন। পুরো এলাকা ঘুরে দেখার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠিত তদন্তদলের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াহিদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিলিফের পদার্থ ছিল, যা দাহ্য পদার্থ। এ ছাড়া অন্যান্য কেমিক্যালও ছিল। প্রতিটি জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। পারফিউমের ক্যানিস্টার রি-ফিল করা হতো।

এখানে। সেই ক্যানিস্টারগুলো বিস্ফোরিত হয়ে বোমের মতো কাজ করেছে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেমিক্যালের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে আগুন কখনো এভাবে ছড়ায় না।

এই তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের গোডাউনের কোনো অনুমতি নেই।

কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ওয়াহিদ মঞ্জিলের দোতলার পুরোটাই গোডাউন ছিল। ভবনটিতে আগুন নেভানোর কোনো সরঞ্জাম নেই। বিল্ডিং কোডও মানা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়তো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে, তবে রাসায়নিকের কারণেই আগুন এত বেশি ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গতকাল চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় কমিটির প্রধান জানান, ঘটনাস্থল থেকে অনেক ক্লু পাওয়া গেছে। ট্রান্সফরমার, গ্যাস সিলিন্ডার বা রাসায়নিক—যেকোনো কারণেই বিস্ফোরণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটি গাড়ি চেক করেছি। দুর্ঘটনাস্থলে থাকা যে পিকআপটির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাতের কথা বলা হয়েছিল সেটির সিলিন্ডার অক্ষত রয়েছে। তবে এই এলাকায় বেশ কিছু কেমিক্যালের দোকান রয়েছে। তাছাড়া ওয়াহিদ ম্যানশনের নিচে কিছু প্লাস্টিকের দানার দোকান ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটিও গতকাল অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার গঠিত এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি অনুবিভাগ) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, ঢাকা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ও লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার।

পরিদর্শন শেষে কমিটির প্রধান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে কথা বলেছি এবং এখানকার সব কিছু দেখেছি। আমাদের প্রাথমিক কাজ হবে অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ খুঁজে বের করা। একই সঙ্গে আগামী দিরে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারকে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া।’

অতীতে অনেক তদন্ত প্রতিবেদনই আলোর মুখ দেখেনি; এবার দেখবে কি না জনতে চাইলে তিনি বলেন,  ‘অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে। এজন্যই আমরা এখানে এসেছি, সবার সঙ্গে কথা বলছি।’

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহিম খান বলেন, ‘পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে সুপারিশ করব।’

ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলায় তদন্তে কোনো সমস্যা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির আরেক সদস্য ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জুলফিকার রহমান বলেন,  ‘না, এগুলো দুর্ঘটনার পর থেকেই দেখছি। কোথায় কী ছিল সব জানা আছে। আমাদের মূল কাজ হবে আগুনের উৎস এবং কিভাবে এর তীব্রতা বেড়েছে তা খুঁজে বের করা।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা