kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত অভিযান

বসিলায় আরো ৪৯ স্থাপনা উচ্ছেদ

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসিলায় আরো ৪৯ স্থাপনা উচ্ছেদ

নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে ‘আমিন-মোমিন হাউজিংয়ের’ ভেতরেই প্রাচীরের পাশে একটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে। তার মাথায় লাল ফিতা। সেদিকে নজর অনেকের। সামনে ইটের সড়ক। তার সামনে পুরোটাই নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে আরো কয়েকটি হাউজিং। এর মধ্যে গ্রিন সিটি-২ নামে একটি হাউজিংয়ের দখলে কয়েক একর জমি। গতকাল বুধবার রাজধানীর বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতীরের এই জমিতেই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আরো ৪৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে থেকে দেখা যায়, প্রভাবশালীদের বাধা উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। গতকাল ছিল চতুর্থ ধাপে তৃতীয় দিনের অভিযান। এ সময় বুলডোজার দিয়ে একের এক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত একে একে ৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডাব্লিউটিএ। এ নিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ অভিযানে এক হাজার ৮৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলো।

গতকালের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় স্থাপনাটি ছিল একটি বিশাল কনস্ট্রাকশন স্টোর। সেখানে ‘দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েট লি.’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লোহা ও স্টিলের বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের সামনেই ওই গুদাম  বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি প্রাথমিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখানে ১০ কাঠা জমি কিনেছি গ্রিন সিটি-২ নামের হাউজিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। প্রতি কাঠার দাম পড়েছে ২৫ লাখ টাকা। দশ কাঠা জমি কিনতে দিতে হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।’

বিআইডাব্লিউটিএ সূত্র জানায়, অভিযানের সময় গ্রিন সিটি-২-এ অবৈধা স্থাপনা উচ্ছেদ ছাড়াও অভিযানে তিন হাজার ফুট দেয়াল ভাঙার পাশাপাশি ১৩টি ইটের স্তূপ অপসারণ করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ওই এলাকাতেই একটি দশ তলা ভবনসহ অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়ে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িক বন্ধ করা হয়েছিল। তবে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতদিন (মঙ্গলবার) বাধা পেলেও অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গতদিন যেখান থেকে অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল আজ (বুধবার) সেখান থেকেই অভিযান শুরু করে আরো ৪৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীর জায়গা ও তীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে গরুর খামার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গুদামঘর, বসতবাড়ি, বহুতল ভবন। হাউজিংয়ের মাঝখান দিয়ে একটি সড়ক চলে গেছে। পাশেই সড়ক লাগোয়া নদীর সীমানা পিলার। পাশে ছোট ছোট টিনশেড ঘর। অভিযানের সময় এসব ঘরের বেশির ভাগ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আমিন-মোমিন হাউজিংয়ের ভেতরে জমির মালিকানা দাবি করে একটি সাইনবোর্ড টানানো দেখা গেল। সাইনবোর্ডে লেখা, ‘ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক মো. রবিকুল আলম দীপু। চেয়ারম্যান এসএস রহমান গ্রুপ।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমিন-মোমিন হাউজিংয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও থামাতে পারেননি বিআইডাব্লিউটিএকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা