kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, বহু দগ্ধ

একজনের লাশ উদ্ধার, কেমিক্যালের গুদাম থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, বহু দগ্ধ

রাজধানীর চকবাজারের একটি ভবনে গতকাল রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে বহু মানুষ আহত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর চকবাজার এলাকায় গত রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকার ওয়াহিদ ম্যানশন নামের পাঁচতলা ভবনে প্রথম আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাশের সড়কে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর একটি গাড়িতে আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ওই ভবন থেকে আগুন পাশের তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে এই সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।  ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকা থেকে কমপক্ষে ৪৮ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে ১৬ জনকে। চিকিৎসকরা এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ওয়াহিদ ম্যানশনের পাশেই রয়েছে পারফিউম, বডি স্প্রে, প্লাস্টিক পলিথিনের কাঁচামালে গুদাম কারখানা। এমন কথাই জানিয়েছে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে ভিড় করা লোকজন বলেছে, অগ্নিকাণ্ডের স্থল থেকে ক্ষণে ক্ষণে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। 

আগুনের খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ হতে হচ্ছিল। আগুন লাগার স্থলে দুটি গাড়ি পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। গাড়ি দুটির পাশে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছেন খবর সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ জানান, গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগেছে। কেউ বা বলেন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। আবার কেউ বলেন, ভবনটির পাশের খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে পুরো এলাকায় ছোটাছুটি শুরু হয়। জীবন বাঁচানোর জন্য আশপাশের ভবন থেকে লোকজন দ্রুত নেমে যেতে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা রাত সোয়া ১টার দিকে জানান, একটি গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়ায় বলে তাঁরা জেনেছেন। আগুন দ্রুতই আরো তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চেষ্টায় তাঁরা আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে রাসায়নিক তথা দাহ্য পদার্থ থাকা একটি ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁরা তখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   

এলাকাবাসী জানায়, ওয়াহিদ ম্যানশনের নিচতলায় প্লাস্টিক কারখানাও রয়েছে। অন্যতলাগুলোতে লোকজন বসবাস করত। ওই বাসিন্দাদের খোঁজখবর তারা পাচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুড়িহাট্টার ওই বাড়ির নিচতলার একটি গ্যারেজে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে আগুন পাশের একটি কেমিক্যালের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে বের হতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছে। আবার অনেকে বের হতে গিয়ে আটকা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলে, প্রচণ্ড গতিতে আগুন ছড়াতে থাকে। এলাকাটির গলিগুলো খুবই সরু। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোর কাছাকাছি পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছিল। রাত দেড়টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার খবর পাওয়া যায়।  

মেডিক্যালের চিত্র : রাত ১১টা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক  দগ্ধদের নিয়ে আসা শুরু হয়। সেখানে তখন কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি চলছিল। চিকিৎসক ও নার্সরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, আগুনে দগ্ধ হওয়ার চেয়ে আগুন থেকে পালাতে গিয়ে আহত হওয়ার সংখ্যা বেশি।

মনে করিয়ে দিল নিমতলী ট্র্যাজেডি : ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১ নবাবকাটরায় পাঁচতলা বাড়িতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় হারাতে হয় ১২৩ জনকে। আহত হয় কয়েক শ মানুষ। আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয় অনেক পরিবারকে। মূলত কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনেই ওই দিনের অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে। গোডাউনের অতি দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার হাজার কেমিক্যাল গোডাউন, কারখানা রয়েছে। এসব গোডাউন ও কারখানায় বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আবাসিক এলাকার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

 

 

 

 

 

 

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

=আসুন, সবাই মিলে দেশ গড়ি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক

নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনসহ ২১ জন গুণী ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০১৯ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দেশের সবাইকে মিলেমিশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে পদকপ্রাপ্ত ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়, নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করা যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি, শিক্ষা, ঐতিহ্য—সব কিছুকেই রক্ষা করা ও তার মর্যাদা দেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ‘আসুন, আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা গড়ে তুলি। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্বে যেন অনন্য মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারি।’ 

এ বছরের পদকপ্রাপ্তরা হচ্ছেন ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরণোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু ও অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য একুশে পদক পেয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। প্রয়াত পপশিল্পী আজম খান (মরণোত্তর) ও নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান। গবেষণায় ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড. মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় ড. প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ভাষা সাহিত্যে কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান, ঔপন্যাসিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, কবি অসীম সাহা, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মঈনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পান।

মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ী অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম প্রজ্ঞা লাবনী এবং পপসম্রাট আজম খানের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম ইভা খান পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা