kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১৯ ব্যাংক এক অঙ্ক সুদে ঋণ দিচ্ছে

রফিকুল ইসলাম   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯ ব্যাংক এক অঙ্ক সুদে ঋণ দিচ্ছে

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে এক অঙ্কে সুদহার নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও এখনো দেশীয় ২০ বেসরকারি ব্যাংক শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণের ক্ষেত্রে দুই অঙ্কে সুদ আদায় করছে। এ ক্ষেত্রে এক অঙ্কে সুদহারে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে সরকারি ব্যাংক। কিন্তু দেশীয় ৩২টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ২০টিই সুদহার এক অঙ্কে আনতে পারেনি। তবে ১২টি ব্যাংক এখন এক অঙ্ক সুদহারে ঋণ দিচ্ছে গ্রাহকদের।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে এক অঙ্কে ঋণ প্রদান করছে। ক্রমেই এক অঙ্কে সুদে ঋণ দেওয়ার মাত্রা বাড়ছে। শিল্পঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এই হারে ঋণ দিলেও অন্যান্য খাতের ঋণে দুই অঙ্কের ওপরেই রয়েছে।

তবে বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া কম সুদে আমানত না পাওয়ায় ঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নামানো যাচ্ছে না। কিছু ব্যাংক এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেওয়া চালু করলেও কিন্তু অন্যদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে শিগগিরই অন্যান্য ব্যাংক এক অঙ্কে ঋণে নেমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টির মধ্যে সরকারি পাঁচ ব্যাংক—অগ্রণী, সোনালী, জনতা, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংক বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্পেও পাঁচটি ব্যাংক একই হারে ঋণ দেয়। কিন্তু রূপালী ব্যাংকই ৯-১১ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকও বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করছে।

এ ছাড়া বেসরকারি আল-আরাফাহ্, বিসিবিএল, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল), এনআরবি গ্লোবাল, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক এক অঙ্ক সুদহারে ঋণ প্রদান করছে। কিন্তু কনজ্যুমার ক্রেডিট ঋণে এখনো দুই অঙ্কে সুদহার নিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংক পুরোপুরি এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করলেও বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক এখনো সেটি করতে পারেনি। এক বছর আগে বা ২০১৮ সালে উদ্যোক্তাদের দুই অঙ্ক সুদহারে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে হয়েছে। ঋণের চাহিদা বেশি থাকায় কোনো কোনো ব্যাংক নিজেদের ইচ্ছামতোও সুদ নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার এক অঙ্কে নামানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। সুদহার কমানোর আশ্বাসে ব্যাংক মালিকদের সুবিধা করতে ব্যাংকের কর্পোরেট কর ২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেয় সরকার। সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশও বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। এডিআর সমন্বয়ের সময়ও বাড়িয়ে নেন মালিকরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা