kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অক্টোবরেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন

আবদুল্লাহ আল মামুন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অক্টোবরেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন

নির্ধারিত সময় চলতি বছরের অক্টোবরেই অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে যত দূর সম্ভব দল ও সরকারকে আলাদা করার লক্ষ্য থাকবে বলে জানা গেছে। সে কারণে দলের নেতৃত্বে নতুন মুখের প্রাধান্য থাকতে পারে।

আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় এই সম্মেলনের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যেকোনো সময় দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মেলনের ঘোষণা আসতে পারে। আওয়ামী লীগের তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাসে শেষ হচ্ছে। এর আগেই জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলের নেতারা বলছেন, জাতীয় সম্মেলন করতে হলে অনেক প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। সেটা শুরু হবে উপজেলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আর দলের সভাপতি শেখ হাসিনা অনন্য নজির স্থাপন করে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি পুরনো ও অদক্ষদের বাদ দিয়ে গঠন করেন তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভা। শেখ হাসিনার এই চ্যালেঞ্জ সর্বত্র প্রশংসিত হয়। মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কমসংখ্যক নেতার ঠাঁই হয়।

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শেখ হাসিনার সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তিও তিনি এই লক্ষ্য পূরণে কাজে লাগাতে চান। তাই এবারের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে সেভাবেই ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। এর ফলে দলের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সম্মেলনেই গড়ে ৩০ ভাগ নতুন মুখ আসছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনেও নেতৃত্বে অনেক নতুন মুখ আসবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে স্থান দেওয়া হচ্ছে।’

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলন করতে হলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে। এরপর নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিশন গঠন এবং দলীয়ভাবে আলাদা প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। সম্মেলনের জন্য বিভিন্ন উপকমিটিও গঠন করা হয়ে থাকে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এর আগে সম্মেলন হবে না বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ত্রিবার্ষিক এই জাতীয় সম্মেলনে মন্ত্রী-এমপি নন, এমন নেতা ও ত্যাগী নতুন মুখকে মূল্যায়ন করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন করার ব্যাপারে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার আগে উপজেলা ও ডাকসু নির্বাচন রয়েছে। এই দুটি নির্বাচন শেষ হলে আমরা সংগঠনের ব্যাপারে মনোযোগ দেব।’

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’—এই স্লোগান ধারণ করে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয় দলটির সম্মেলন। সেখানে টানা দুইবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাদ পড়েন। প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। পরবর্তী সময়ে ঘোষিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন অধিকাংশ নেতার ঠাঁই হয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা