kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রধানমন্ত্রী মিউনিখ থেকে আবুধাবিতে

আমিরাতের সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক সই, বড় বিনিয়োগ আশা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমিরাতের সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক সই, বড় বিনিয়োগ আশা

মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর জার্মানি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাঁর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আমিরাতের সঙ্গে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের আশা দেখছে বাংলাদেশ।

গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় বিকেলে আবুধাবির সেন্ট রেগিজ হোটেলে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে ব্যবসার একটা নতুন দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যেটা আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

জার্মানি সফর শেষে গতকাল সকালে আবুধাবি পৌঁছেন শেখ হাসিনা। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। আবুধাবি পৌঁছার পরপরই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমসহ উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা। দুপুরের পর ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

যেসব সমঝোতা : গভর্নমেন্ট অব দুবাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) চুক্তি। এতে সই করেছেন নৌপরিবহনসচিব এম আব্দুস সামাদ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম। পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বলেন, ‘এটার মূল ফোকাস হলো পোর্ট ও শিল্প পার্ক। কারণ ডিপি ওয়ার্ল্ড বলছে, তারা যেখানে পোর্ট তৈরি করে তারা সেখানে পোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, শিল্প পার্কও তৈরি করে। এখানে একটা ম্যাসিভ বিনিয়োগের কথা তারা চিন্তা করছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।

আরেকটি সমঝোতা হয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কম্পানির। এতে সই করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কম্পানির গ্রুপ সিইও সাইফ আল ফালাসি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘এটার মেইন ফোকাস হলো—বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ। পায়রায় ভূমিভিত্তিক এলএনজি রিসিভিং সেন্টার করা। পায়রায় তারা ৩০০ একর জমি চেয়েছে, যেখানে এটা করবে। সুতরাং আমরা দেখছি, এলএনজির একটা বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশে যাবে এবং এটা পায়রায়।’

তৃতীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য ও বিনিয়োগকারী শেখ আহমেদ ডালমুখ আল মাখতুম এবং পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদের মধ্যে। এর আওতায় দুই ধাপে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ চুক্তি হয়েছে মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। এটিতেও সই করেছেন শেখ আহমেদ ডালমুখ আল মাখতুম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। শহীদুল হক বলেন, ‘মাতারবাড়িতে তারা ৩০০ একর জমি চেয়েছে।’

আমিরাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক : বিকেলে আমিরাতের মন্ত্রী, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আজকের বিকেলটাই কেটেছে বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে। আমরা যেটা ফিল করেছি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু অফিশিয়ালি বেশ কয়েকবার ইউএইতে এসেছেন, এখান থেকে গেছেন। কিন্তু এ ধরনের আগ্রহ এর আগে তাদের মধ্যে আমরা লক্ষ করিনি।’

বৈঠকে আমিরাতের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রী সুলতান বিন সাইদ আল মনসুরি উপস্থিত ছিলেন। সচিব বলেন, ‘একটা নতুন ধরনের অর্থনৈতিক পার্টনারশিপের ওপর ইকোনমিক মিনিস্টার গুরত্বারোপ করছিলেন। উনারা বললেন, বাংলাদেশে উনারা নতুনভাবে ব্যবসা বাড়াতে চান। বিশেষ করে বিনিয়োগ করতে চান। সেটার মূলে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে যৌথ ব্যবসা ফোরাম ও যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত দিন কিন্তু আমরা চাচ্ছিলাম তাদের কাছে এগিয়ে এগিয়ে কিছু করার। তারা এখন এগিয়ে আসছে মনে হচ্ছে। যে কয়টা চুক্তি হয়েছে তার সবগুলোতেই তাদের দিক থেকে প্রচণ্ড আগ্রহ দেখেছি। তারা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ : সকালে আবুধাবির ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে পৌঁছলে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর পাশাপাশি আবুধাবিতে নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনও আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএনএস ধলেশ্বরী অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীর পাশেই বসানো হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে।

দায়ী না হয়েও জলবায়ুর কুফল ভোগ করছে বাংলাদেশ : এর আগে শনিবার রাতে মিউনিখে জলবায়ুসংক্রান্ত ওই প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের যথেষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থায়ন রয়েছে। আমাদের এখন শুধু প্রয়োজন সমাজের সর্বত্র ধনিক শ্রেণির সদিচ্ছা, আগ্রহ ও প্রচেষ্টা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী না হয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল ভোগ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বাস করে, জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা অত্যন্ত কম; সত্যি কথা বলতে গেলে আমাদের কোনো ভূমিকাই নেই, আমরা উষ্ণায়নের জন্য দায়ী নই। অথচ আমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা