kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বিষের খনি বিশবাড়ী

ক্ষেতের সার-কীটনাশকের বিষ ঢুকছে মানবদেহে

তৌফিক মারুফ, লালমনিরহাট ঘুরে   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বিষের খনি বিশবাড়ী

লালমনিরহাট শহর থেকে উত্তর দিকে সাড়ে সাত কিলোমিটার যেতেই চোখ আটকে যায় প্রধান সড়কের পাশের এক খণ্ড ফসলি জমির ওপর। অনেকটা চারকোনা আকারের ওই জমিতে ভাগে ভাগে বিভিন্ন ধরনের ফসল। কোথাও ধান, কোথাও পটোল, কোনো অংশে লাউ, কোথাও বেগুন। গাঢ় সবুজ পাতায় ছেয়ে থাকা জমির মাঝামাঝি স্থানে কাজ করছিলেন দুজন নারী, একজন পুরুষ। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সদর উপজেলার ওই গ্রামটির নাম বিশবাড়ী।

প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রামে কৃষক পরিবার আছে ৩৪-৩৫টি। প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে এভাবেই তাঁরা নানা ফসলের চাষ করেন নিয়মিত। আর সবাই জমিতে ব্যবহার করে নানা ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। আবুল হোসেনের ভাষায়, ‘বিষ তো দিতেই হয়, বিষ ছাড়া ফসল টিকিব!’

খাদ্যশস্য, মাছ ও শাকসবজি উৎপাদনে দেশে অগ্রগতি হলেও নিরাপদ খাদ্য এখন অনেক ঝুঁকিতে। ধান, শাকসবজি, মাছ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিতে ঢুকছে নানা ধরনের বিষ। খাদ্যচক্র হয়ে সেই বিষ ঢুকে পড়ছে মানুষের দেহে; তৈরি করছে জটিল সব রোগ। কেন এবং কিভাবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলো, কারা এর জন্য দায়ী—সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কালের কণ্ঠ প্রায় তিন মাস ধরে দেশে-বিদেশে চালিয়েছে অনুসন্ধান। এতে বেরিয়ে এসেছে বেশি উৎপাদনের নামে নানা অসাধু চক্রের তৎপরতায় আর সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় নির্বিচারে ফসলের জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে মাটি, পানি দূষিত হয়ে খাদ্যশস্য বিষাক্ত হয়ে পড়ার তথ্য। আর মাটি, পানিসহ খাদ্যচক্র বিষাক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সার-কীটনাশকের চেয়ে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে শিল্পবর্জ্য। বিশেষ করে ভারী ধাতু খাদ্যশস্যে বেশি আসে কল-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য থেকে।

লালমনিরহাটের বিশবাড়ী গ্রামে সড়ক থেকে আল ভেঙে জমিতে নামতেই কিছুটা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন তিনজন। এক নারী কাজ ফেলে অনেকটা দূরে গিয়ে দাঁড়ান। একমাত্র পুরুষটি জানান, তাঁর নাম পরিমল রায়, বয়স ৩৫ বছর। জমির পাশেই তাঁদের বাড়ি। পরিবারের সবাই বংশপরম্পরায় নিজেদের জমিতে চাষ করে আসছেন। নিজে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেও আছেন শুধু কৃষিকাজ নিয়েই। পারিবারিক আয়ের প্রধান উৎস এটি। কাছে ছিলেন তাঁর মা চারুবালা ও স্ত্রী তুহিন।

পরিমল জানান, তাঁদের চার বিঘা জমি ওখানে। আগে শুধু ধান লাগাতেন। তবে সবজিতে বেশি লাভ থাকায় ধানের জমি কমিয়ে সেখানে চাষ করছেন সবজি। তাঁর মতে, সবজি সারা বছর পাওয়া যায়, সপ্তাহে সপ্তাহে বিক্রি করা যায়, দামও ভালো মেলে। সপ্তাহে শুধু পটোলই বিক্রি করতে পারেন পাঁচ-ছয় মণ। মাঘ মাসে শুধু একবার গাছ লাগাতে পারলেই হয়। পরে শুধু পরিচর্যা আর আয়।

পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিমল বলেন, ‘বিষ দিতে হয়। বিষ মানে ওই যে কীটনাশক আছে না, সেইগুলা।’ কী কীটনাশক দেন জানতে চাইলে বলেন, ‘পটোলে দেই মর্টার আর স্ট্যাটার, সিনজেনটার ওষুধ। ১০০ মিলিমিটারের একটা আনি, দুই কর্ক পানিতে মিশাইয়া স্প্রে করি। লাউয়ে দেই তুন্ডা, বেগুনে স্ট্যাটার, ধানে বিত্তেকা।’ কীটনাশক দেওয়ার কত সময় পর ফসল সংগ্রহ করেন বা বাজারে দেন—জানতে চাইলে পরিমল জানান, সাধারণত বাজারে দেওয়ার সাত দিন আগে দেওয়া হয়। মাঠ তৈরির সময় কোনো কীটনাশক দেওয়া হয় কি না জিজ্ঞাসা করতেই পরিমলের জবাব, ফুরাডান। কোথায় পান জানতে চাইলে বলেন, ‘দোকানের অভাব নাই। কাছেই বাজারে পাওয়া যায়, আবার শহরে তো অনেক দোকান।’ কোন সমস্যায় কোন কীটনাশক দিতে হয় সে প্রসঙ্গে পরিমল বলেন, ‘দোকানে যাইয়া বলি, তারপর দোকানের লোকজন যেইটা দেয় সেইটাই আনি।’ ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বলেন, ‘এলাকার লোকজনের কাছে শুনি, দোকানিরাও বলে দেয়।’ কৃষি বিভাগের লোকজন যায় কি না জানতে চাইলে পরিমলের সাফ জবাব, ‘না, আসে না।’

কীটনাশক ব্যবহারের সময় বা পরে সমস্যা হয় কি না জানতে চাইলে পরিমল বলেন, ‘হয়ই তো, চোখ জ্বালাপোড়া করে, হাত জ্বলে।’ নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, ‘নাক-মুখ গামছা দিয়া বান্দি নেই। কীটনাশক দেওয়ার সময় জমিতে হাঁস-মুরগি আসতে দেই না। কারণ হাঁস-মুরগি মারা যায়। এবারই আমার দুই মুরগি মারা গেছে। যেদিন কীটনাশক দিছি, তার পরদিন মুরগি জমিতে গাছের পাতা খাইছে, তারপরই মারা গেছে।’ কীটনাশক দেওয়া সবজি যারা খায় তাদের ক্ষতি হয় কি না জানতে চাইলে কিছু সময় চুপ থেকে তিনি বলেন, ‘ক্ষতি তো হওয়ার কথা।’ তবে কেন দেন জানতে চাইলে বলেন, ‘সবাই তো দেয়। কীটনাশক না দিলে পোকা দমন করা যায় না, সবজিও ভালো রাখা যায় না। সবজি ভালো না হইলে বিক্রি হয় না, দাম পাওয়া যায় না। দাম না পাইলে সংসার তো চলবে না।’

অল্প দূরে বসে মাটি তুলছিলেন পরিমলের মা চারুবালা। তিনি বলেন, ‘বিষ দিলে তো ক্ষতি অইবই। স্বাদও নষ্ট অয়। এই লাউ দেখছেন না, আগে কত স্বাদ আছিল, এখন তো কোনো স্বাদ লাগে না।’

পরিমলের জমি থেকে প্রধান সড়ক ধরে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ হোসেনের সঙ্গে। কীটনাশকের জোগান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কম্পানির লোকরা মাঝেমধ্যে দেখি এলাকায় আসে, কৃষকদের বাড়ি বাড়ি যায়। এটা সেটা দেয়। কৃষকরা খুশি হয়ে তাদের প্রডাক্ট ব্যবহার করে। ক্ষতি কী হয় না হয় সেটা তো কৃষকরা অত সব বোঝে না।’ পাশ থেকে আরেক কৃষক লুত্ফর হোসেন জোর গলায় বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বিষ দেই, আবার নিজেরাই বিষ খাই, নিজেরাই বিষাক্ত হইয়া অসুখ-বিসুখে ভুগি। এর মধ্যেই কোনো মতে বাইচ্যা আছি। এই যে এখন এত রোগবালাই, এইগুলা তো এই বিষের কারণেই হইছে। আগে তো এত বিষও ছিল না, আর এত অসুখ-বিসুখও হয় নাই। কম খাইলেও ভালো খাইছি, ভালো রইছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘বিষ না দিলে পোকায় তো সর্বনাশ কইর‌্যা দেয়। সবজির চেহারা ভালো দেখায় না। এই যেমন বেগুন যদি পোকায় খাওয়া থাকে কেউ কিনতে চায় না। বেগুনের চেহারা চকচক করলে দামও বেশি পাওয়া যায়।’

গ্রামের প্রায় সব কৃষকই জানায়, কৃষি বিভাগের নির্ধারিত কর্মীকে তারা পায় না। এমনকি কোনো কোনো কৃষক ওই কর্মীকে চেনেও না। ফলে তারা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শও পাচ্ছে না।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগ ঠিক নয়। ওই ব্লকের নির্ধারিত কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিতই ফিল্ড ভিজিট করেন।’

লালমনিরহাটে কীটনাশকের মূল মোকাম হিসেবে পরিচিত বিডিআর হাটে গিয়ে দেখা যায় সড়কের দুই দিকেই সার-কীটনাশকের বড় বড় দোকান। সবাই ডিলার। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের একক শোরুমও আছে, যেখানে ওই প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো কম্পানির পণ্য নেই। সিনজেনটার এমনি একটি শোরুম থাকলেও অনুসন্ধানকালে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় পুরনো দোকান মাসুম ফার্টিলাইজারের ব্যবস্থাপক নিপিল চন্দ্র বলেন, ‘লালমনিরহাটে সার ও কীটনাশকের চাহিদা অনেক বেশি। বেচাকেনাও ভালোই হয়। তবে এখন কম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি কৃষকদের কাছে চলে যাওয়ায় আমাদের জন্য কিছুটা খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা নির্দিষ্ট কয়েকটি কম্পানির প্রডাক্টই নিচ্ছে। কম্পানির কাছ থেকে কৃষকরা নানাভাবে প্রলুব্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে সিনজেনটা, বায়ার, অটো, সুইড কম্পানির তৎপরতা এই এলাকায় বেশি। এমনকি কোনো কোনো কম্পানির মহিলা কর্মীও আছে, যারা সহজেই ঘরে ঢুকে যায়।’ লালমনিরহাটে কোন কীটনাশক বেশি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ধানের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশকের (তরল) মধ্যে আছে ক্লোরোপাইরিফস, থায়ামেথোক্সাম, ল্যাম্বডাসাইহ্যালোথ্রিন, ইমিডাক্লোপিড, সাইফারমেথ্রিন, ফিপ্রোনিল, এবামেকটিন। পাউডার জাতীয় থায়ামেথোক্সাম, এমাবেকটিন বেনজয়েট, লুফেনিউরন, পাইমেট্রোজিন, নাইটেনপাইরাম, এসিটামিপ্রিড, এমামেকটিন বেনজয়েট, কার্বারিল, কারটাপ, বেটা-সাইপারমোথ্রিন। দানাদার কীটনাশকের মধ্যে কার্বোফুরান, ডায়াজিনন, ফেনথয়েট বেচাকেনা বেশি হয়।

এত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব এলাকার মানুষের শরীরে দেখা যায় কি না জানতে চাইলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎস্য কর্মকর্তা ডা. মৃণাল কান্তি রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই কীটনাশক পানের রোগী আসে। কেউ হয়তো জেনেশুনে আত্মত্যার জন্য খায়, আবার ভুল করে অন্য কিছুর বদলে ঘরে থাকা কীটনাশক খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া পাওয়া যায় শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়া করার রোগী। আমরা এসবের কিছু চিকিৎস্য দিয়ে থাকি।’ চিকিৎসক হিসেবে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে কিছু করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেই সুযোগ হয় না। কারণ এখানে ডিউটি করেই সময় পাই না। চিকিৎসকের মারাত্মক সংকট, রোগীর চাপ থাকে সব সময়।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘কৃষকরা কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারছে না। অনেকে সঠিক নিয়ম মানতে পারছে, অনেকে পারছে না। ফলে কারো ডোজ ঠিক হচ্ছে, কারো হচ্ছে না। আমরা কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎস্যহ করতে সরকারের তরফ থেকে এখানে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। আইপিএম, আইসিএম কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের বিকল্প পদ্ধতিতে পোকা ও রোগব্যাধি প্রতিরোধে উৎস্যহিত করছি।’

মাঠ পরিদর্শনে না যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে নানা ধরনের সংকট ছিল, এখন জনবল বাড়ানো হচ্ছে, মাঠ পরিদর্শনে কঠোর নজরদারি আনা হচ্ছে। প্রত্যেক মাঠকর্মী সপ্তাহে তিন দিন করে একেকটি এলাকায় অবস্থান করবে। তাদের আবার আমরা মনিটর করব। শুধু কৃষককে সচেতন করলেই হবে না, কম্পানির লোকদেরও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে।’ লালমনিরহাটে সার ও কীটনাশকের এক হাজার ৩৬৫টি ডিলারশিপ আছে বলে তিনি জানান।

তিন মাস পরে আবার বিশবাড়ী এলাকায় গিয়ে পরিমল চন্দ্র রায়ের জমিতে দেখা যায় ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং কিছু শিম আর বেগুন। পরিমল বলেন, এবার ফুলকপি, বাঁধাকপি অনেক ভালো হয়েছে। বেশ দামও পাওয়া যাচ্ছে।

কীটনাশকের বাণিজ্যিক জাল : কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নানা প্রলোভন আর উপকরণ নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন কৃষকদের বাড়ি পর্যন্ত। তাঁদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে কৃষকরা ওই সব প্রতিষ্ঠানের কীটনাশক যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে আছে ভেজাল ও নকল কীটনাশক। ভুয়া ও অখ্যাত কম্পানির পাশাপাশি প্রভাবশালী কিছু কম্পানিও নিম্নমানের কীটনাশক বাজারজাত করছে। মাঝেমধ্যে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ওই সব জব্দ করলেও তা একেবারেই দায়সারা বলে মনে করে মাঠপর্যায়ের অনেক কৃষক।

নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা : এ ক্ষেত্রে কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ভেতরে যেমন অসাধু চক্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের জন্য জনবল ঘাটতি এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্লান্ট প্রটেকশন উইং প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই সামর্থ্যহীন। মাটিতে কিংবা খাদ্যশস্যে কীটনাশক বা রাসায়নিক উপাদান আছে কি না তা দেখার মতো কোনো ল্যাবেটরিও এখনো চালু হয়নি। মাঠপর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও বাস্তবে তারা যথেচ্ছ সার ও কীটনাশক প্রয়োগের অভ্যাস ছাড়তে পারছে না। আবার বিদেশি কিছু সংস্থার সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (আইপিএম) ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিলেও সেটিও যথেষ্ট নয়। এতে মূলত প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক উপায়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যাতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি সর্বনিম্ন মাত্রায় রেখেই ফসলের পোকা ও রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতির বেশ সফলতা দেখা গেছে কম্বোডিয়ায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা