kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আজ থেকে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে শান্তি ও অগ্রগতি কামনা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে শান্তি ও অগ্রগতি কামনা

টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন মুসল্লিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মোনাজাতের সময় ‘আল্লাহুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের বিশাল জনসমুদ্র মুখর হয়ে ওঠে। গতকাল শনিবার গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতের একাংশের ইজতেমা শেষ হয়। অন্য অংশের ইজতেমা শুরু হবে আজ রবিবার।

তাবলিগ জামাতে বিভেদ সৃষ্টির কারণে এ বছর দুই পক্ষ দুই পর্বে সমান দুই দিন করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে।

প্রথম পর্বের ইজতেমায় সারা দেশ থেকে আনুমানিক ২০ লাখ মুসল্লি এবং ৩২টি দেশের প্রায় এক হাজার বিদেশি মেহমান অংশ নেয়।

আখেরি মোনাজাত : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয় গতকাল সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে। শেষ হয় ১১টা ৫ মিনিটে। বাংলা ভাষায় ২৪ মিনিটের এই মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ মারকাজের বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ যোবায়ের। মোনাজাতের আগে মুসল্লিদের করণীয় ও আগামী দিনের বিভিন্ন কার্যক্রমের দিকনির্দেশনামূলক বয়ান দেন পাকিস্তানের মুরব্বি মাওলানা খুরশেদ আলম।

আখেরি মোনাজাতে মানুষের ঢল : আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা মাঠের দিকে যেতে থাকে। সকাল ৬টার পর উত্তরা থেকে গাজীপুরের বোর্ডবাজার ও চৌরাস্তা পর্যন্ত ১০-১২ কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইজতেমার আশপাশের মাঠ, কল-কারখানা, হাসপাতাল, দোকানপাট, ভবনের ছাদ ও নৌকাসহ প্রায় সর্বত্রই মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। স্থানসংকুলান না হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক এবং তুরাগ নদের ওপর থাকা নৌকা ও লঞ্চে অবস্থান নিয়ে বহু মানুষ মোনাজাতে শরিক হয়। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ইজতেমা ময়দানের চারপাশে বেশ খানিকটা দূর পর্যন্ত মাইক সম্প্রসারণ করে। এতে দূরে বসে অনেকেই মোনাজাতে অংশ নেয়।

এর আগে শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হেদায়েতি বয়ান : ইজতেমার প্রথম পর্বের সর্বশেষ হেদায়েতি বয়ানে বলা হয়, জান, মাল ও সময় দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার কাজ তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ কাজ নবীদের কাজ। প্রতিটি বান্দার ওপর এই কাজ ফরজ। যে যত বেশি আমল করবে, সে তত বেশি কামিয়াবি হাসিল করতে পারবে।

নতুন জামাত : মোনাজাতের পর ইজতেমা ময়দান থেকে দুই শতাধিক নতুন জামাত দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পেশা ও অঞ্চল ভিত্তিতে নতুন জামাত তৈরি করা হয়েছে। সাত দিন, চল্লিশ দিন (এক চিল্লা) ও তিন চিল্লার নতুন জামাত বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।

ময়দান পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর বিকেল থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ শুরু করেন। ৫০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে রাতের মধ্যেই ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আবর্জনা অপসারণ করার কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, যেহেতু আজ রবিবার বাদ ফজর থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তাই ইজতেমা ময়দান, আশপাশ, টয়লেট, ওজু-গোসলখানাসহ সব কিছুই পরিষ্কার করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা আগের মতোই : ইজতেমা উপলক্ষে প্রশাসনের নেওয়া সব কার্যক্রম আগের মতোই থাকছে। বিশেষ করে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের নেওয়া ব্যবস্থা বহাল থাকছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, টঙ্গীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়, যা দ্বিতীয় পর্বেও থাকবে।

ফিরতি মানুষের ঢল : আখেরি মোনাজাতের পর মহাসড়ক ও শাখা সড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। মহাসড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না পেয়ে মুসল্লিরা হেঁটে সামনের দিকে এগোতে থাকে। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিদের নিয়ে আসা যানবাহনের বিক্ষিপ্ত চলাচলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। টঙ্গী রেলস্টেশনে মুসল্লিদের ভিড় ছিল আরো বেশি। প্রতিটি ট্রেনে তিল ধারণে ঠাঁই ছিল না। ট্রেনের বগি, ছাদ, ইঞ্জিন সর্বত্রই ছিল মানুষে ঠাসা। টঙ্গীর স্টেশন রোড, মিলগেট, টঙ্গী বাজার, চেরাগ আলী মার্কেট, কলেজগেট থেকে ইজি বাইক, টেম্পোসহ ছোট ও হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় চার গুণ বেশি ভাড়ায়। ট্রাক, পিকআপ ও বাসভাড়া হাঁকা হয় ১০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা।

দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি : মাওলানা সাদ কান্ধলভিপন্থী মুসল্লিদের প্রধান সমন্বয়কারী ওয়াসেফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩২ জন শীর্ষ পর্যায়ের জিম্মাদার মুরব্বি দ্বিতীয় পর্বের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁরা প্রস্তুতি কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য গতকাল বাদ আসর ইজতেমা ময়দানে আসেন। রাত ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক নিবাসসহ বিভিন্ন খেত্তায় নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিতে তাঁদের নেতৃত্বাধীন জামাতের সাথিরা ময়দানে প্রবেশ করেন। আজ বাদ ফজর থেকে ৬৪ জেলার মুসল্লি ও বিভিন্ন দেশের মেহমানরা ময়দানে আসবেন।

মাওলানা সাদপন্থী জামাতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আব্দুল্লাহ মনসুর শেখ জানান, দায়িত্বশীল মুরব্বিরা আগেই আশকোনা হজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা