kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিয়ানমারের মানচিত্রে সেন্ট মার্টিনস!

বারবার একই ভুল তলবে হাজির হয়ে রাষ্ট্রদূতের স্বীকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বারবার একই ভুল তলবে হাজির হয়ে রাষ্ট্রদূতের স্বীকার

আবারও সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ ও এ দেশের সমুদ্রসীমার কিছু অংশ মিয়ানমার তার মানচিত্রে নিজের অংশ হিসেবে দেখিয়েছে। আর এর প্রতিবাদে ঢাকায় মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং খোয়াকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ ও অনতিবিলম্বে মানচিত্র সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন এবং সেখানে বসেই নিজ দেশে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছি তাঁরা বারবার একই ভুল কেন করছেন? তিনি (মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) একমত হয়েছেন যে এটি ঘটার কোনো কারণ ছিল না। তাঁরা তাঁদের ভুল স্বীকার করেছেন।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা তাঁদের বলেছি অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করতে। এরপর মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আমার এখান থেকেই তাঁদের দেশে যোগাযোগ করেছেন। শুক্রবার (আজ) তাঁদের (মিয়ানমারের সরকারি দপ্তরগুলোর) কর্মদিবস রয়েছে। আগামী কালকের ভেতরেই (আজ শুক্রবারের মধ্যেই) তাঁরা মানচিত্রের ভুল ঠিক করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘গত বছরের ৬ অক্টোবর মিয়ানমার তাদের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের কাজ করেছিল। তখন আমরা তীব্র প্রতিবাদ করে ওই মানচিত্রের সংশোধনী দেওয়ার কথা বলি। বাংলাদেশের চাপের মুখে তখন তারা সেটি সংশোধন করে। এরপরও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির আরেকটি ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কিছু অংশ নিজেদের মানচিত্রে দেখিয়েছে মিয়ানমার।’

জানা গেছে, গত দুই মাসে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে সম্পর্কে টানাপড়েন চললেও বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এর পরও মিয়ানমার কখনো আকাশসীমা লঙ্ঘন, মিথ্যা প্রচারণা  আবার কখনো বা মানচিত্র ভুলভাবে প্রকাশ, সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি গুলি ছুড়ে বা অন্যান্য মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টির উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকটকে আড়াল করতেই মিয়ানমার এ ধরনের ফাঁদ পাতছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চলতি জার্মানি সফরেও রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা