kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ব ইজতেমা শুরু এক দিন আগেই

তুরাগতীরে দেশি বিদেশি লাখো মুসল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও টঙ্গী প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশ্ব ইজতেমা শুরু এক দিন আগেই

টঙ্গীর তুরাগতীরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে মুসল্লিরা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীতে ‘কহর দরিয়া’ তথা তুরাগতীরে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। আগামীকাল শনিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ পর্ব শেষ হওয়ার পর রবিবার শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। এবারের ইজতেমার আয়োজক দুই পক্ষ দুই দিন করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাসহ বিশ্ব তাবলিগের জ্যেষ্ঠ মুরব্বি ও শুরা সদস্যরা এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

এবার ইজতেমায় বিশ্বের বেশির ভাগ শুরা সদস্যসহ ভারতের তাবলিগের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিদের উপস্থিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের অনেকেই গতকাল বৃহস্পতিবারই ইজতেমার মাঠে পৌঁছে গেছেন। দেশি-বিদেশি লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এরই মধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে ইজতেমা ময়দান।

বিশ্ব তাবলিগ মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ঘিরে তাবলিগ জামাতে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিবদমান দুই পক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সরকারের সঙ্গে দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মাওলানা যোবায়েরপন্থীদের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল আসরের নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা খুরশিদ আলমের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে মূলত ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

প্রথম পর্বের আয়োজক কমিটির তথ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মুরব্বি জহির ইবনে মুসলিম জানান, বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা গতকাল বিকেলেই ৫০টি জেলাভিত্তিক খেত্তায় এবং আন্তর্জাতিক নিবাসে অবস্থান নিয়েছে। আগতদের জন্য সব প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তা : বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবারের ইজতেমা ঘিরে আরো কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এবার বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, ইজতেমা অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইজতেমাস্থল ও আশপাশের এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকছে। গোয়েন্দা নজরদারি থাকছে প্যান্ডেলের বিভিন্ন খেত্তায়। পুরো এলাকার বিভিন্ন স্থানে ২৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাঁচটি মূল ও ১৩টি শাখা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পুরো এলাকার খোঁজ রাখা হবে। আকাশপথে ও নৌপথে টহল দেবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া পুরো টঙ্গীতেই র‌্যাব-পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কড়া নজরদারি থাকছে।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমায় শীর্ষস্থানীয় যেসব মুরব্বির উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি তাঁদের মধ্যে আছেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা আহমদ লাট, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা জুবায়েরুল হাসান, মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা যুয়ারুল হাসান, মুফতি শামিম, মিয়াজি মাওলানা ফুল, মুফতি শরিফ, মাওলানা জামসিদ এবং বিশ্ববিখ্যাত আলেম ইউসুফ সালানির সন্তান মাও ইয়াকুব, ফারুক ব্যাঙ্গালার, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা সানাউল্লাহ আলীগড় প্রমুখ। এ ছাড়া তাবলিগের আলেম উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা মাহমুদুল হাসান, আল্লামা আবদুল কুদ্দুসসহ শীর্ষস্থানীয় ওলামারা ইজতেমার শুরু থেকেই মাঠে অবস্থান করবেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আজ ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ আদায় করার কথা।

এবার বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভির বড় ছেলে মুফতি ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভি। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ইজতেমা ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন। এবারও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের বিশ্ব তাবলিগের শুরা সদস্যরা ইজতেমায় অংশ নেবেন।

যান চলাচলে বিধি-নিষেধ : দুই পর্বের ইজতেমায় মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গাড়ি চলাচল, পার্কিং ও ডাইভারশন বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির নির্দেশনায় রেইনবো ক্রসিং থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পাশে কোনো যানবাহন পার্ক করতে নিষেধ করা হয়েছে। গাউসুল আজম এভিনিউয়ে (১৩ নম্বর সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড) চট্টগ্রাম বিভাগের গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; ঢাকা বিভাগের জন্য সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা থেকে দিয়াবাড়ী খালপাড় পর্যন্ত; সিলেট বিভাগের জন্য উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টর খালপাড় থেকে দিয়াবাড়ী গোলচত্তর পর্যন্ত; খুলনা বিভাগের জন্য উত্তরা ১৭ ও ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা (প্রধান সড়কসহ); রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য প্রত্যাশা হাউজিং; বরিশাল বিভাগের জন্য ধউর ব্রিজ ক্রসিংসংলগ্ন বিআইডাব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ঢাকা মহানগরের জন্য উত্তরায় শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ ও নিকুঞ্জ-২-এর আশপাশের খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা