kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

‘সবুজের কালো হাত বিআরটিএতে’

দুর্নীতি তদন্তে কমিটি, সবুজ পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতি তদন্তে কমিটি, সবুজ পলাতক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহে দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই দুর্নীতিতে সিন্ডিকেটের প্রধান, পরিবহন নেতা তাজুল ইসলাম সবুজ যেন বিআরটিএর কোনো কার্যালয়ে আর প্রবেশ করতে না পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

গতকাল বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম এবং বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানকে এই নির্দেশ দেন তিনি। সড়কসচিব ও বিআরটিএর চেয়ারম্যান ওই সময় মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

সড়কমন্ত্রীর নির্দেশের পরই গতকাল দুপুরে বিআরটিএর সচিব আবদুস সাত্তারকে প্রধান করে দুর্নীতি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কালের কণ্ঠে গতকাল বুধবার ‘সবুজের কালো হাত বিআরটিএতে’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে চলে আসা দুর্নীতি তদন্তে মন্ত্রীর নির্দেশ এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল সকালে অভিযুক্ত সবুজ বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে গেলে তাঁকে কয়েকজন কর্মকর্তা ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। পরে সহযোগীদের পরামর্শে সবুজ দ্রুত সটকে পড়েন। এর পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। জানা গেছে, তিনি গাঢাকা দিয়েছেন।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনটি নিয়ে গতকাল সকাল থেকে বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়, মিরপুর, ইকুরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা আলোচনায় মেতে ওঠেন। বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা ফোন করে দালালদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পরামর্শ দেন। সবুজের সংগঠনও এই ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত। ফেডারেশনের নেতারা সবুজের মাধ্যমে এত দিন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড় করিয়ে নিতেন।

গতকাল সকাল থেকে বিআরটিএর মিরপুরসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে দালালদের বেশির ভাগ সরে পড়ে। পুরো দিন সবুজের সিন্ডিকেটের সদস্যরা দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ার ভয়ে ছিল।

এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তারা বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করেন। সবুজের মাধ্যমে তাঁদের দপ্তরে যাওয়া সুপারিশপত্র ধ্বংস করার বিষয়টি ভাবেন তাঁরা। কর্মকর্তাদের অনেকে আবার এসব নথিপত্র ধ্বংস না করে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। সংস্থাটি চুক্তি অনুসারে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুপারিশ অনুসারেই ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট দিয়ে আসছিল।

প্রসঙ্গত, পরিবহন শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলাম সবুজের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ। বিআরটিএর চেয়ারম্যানের দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার আঁতাতে সবুজের সংগঠনের প্যাডে পাঠানো রেফারেন্স নম্বর দেখে দেওয়া হয় ড্রাইভিং লাইসেন্স। ছয় মাস ধরে দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আবেদনকারী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিআরটিএ কার্যালয়ের দালাল এবং কর্মকর্তাদের সহকারীর মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার পরই সবুজের পাঠানো রেফারেন্স নম্বর দেখে লাইসেন্স দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় সবুজের সিন্ডিকেট প্রথমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করে। এরপর সবুজের সংগঠনের প্যাডে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয় রেফারেন্স নম্বর। এর পর দিনে দিনে মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স। আবেদন করার পর ঘুষ না দিলে মেলে না লাইসেন্স।

সবুজ ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মিশুক, অটো টেম্পো সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (নিবন্ধন নম্বর : ৪৫৯১) সভাপতি। তাঁর সংগঠনের কার্যালয় সাভারের ইমান্দিপুরের ব্লক-ই-এর ১৬/৬ নম্বরে। ২০০৭ সাল থেকে তিনি বিআরটিএর মিরপুর, ইকুরিয়াসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে লাইসেন্সের দালালি করে আসছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা