kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

প্রতারণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দণ্ডই দেওয়া উচিত

গোলাম রহমান

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতারণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দণ্ডই দেওয়া উচিত

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিভিন্ন প্যাকেজ বা অফারের মাধ্যমে যতসংখ্যক গ্রাহক প্রতারণার শিকার হচ্ছে, তাদের সবাই যে প্রতিকার পেতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে, বিষয়টি তেমন নয়। যে প্যাকেজের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে, সে প্যাকেজ যারা ব্যবহার করছে তাদের বেশির ভাগই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে দু-একজন হয়তো অভিযোগ করছে। আবার গ্রাহকদের মধ্যে যারা সচেতন, প্রতারণার বিষয়টি শনাক্ত করার মতো সক্ষমতা যাদের আছে, তারাই এটা বুঝতে পারে। আবার বুঝেও বেশির ভাগই অভিযোগ করে না। তাদের কেউ কেউ মনে করে, কয়েক শ টাকার ক্ষতির জন্য অভিযোগ করেই বা কী লাভ। বাড়তি দুর্ভোগের আশঙ্কায় সবাই অভিযোগ করে না। কিন্তু এই অসাধু প্রক্রিয়ার মোবাইল ফোন অপারেটররা কোটি কোটি টাকা যে হাতিয়ে নিচ্ছে না, তা বলা যায় না।

আমি মনে করি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে গ্রাহকদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সর্বোচ্চ দণ্ডই দেওয়া উচিত। কারণ এসব প্রতারণার মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা অনৈতিকভাবে আয় করছে। আর এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রতারণারমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করে গ্রাহকদের নিরাপদ রাখা। প্রতারণা চলবেই, গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রতারকরা জরিমানা দিতেই থাকবে—বিষয়টি তো সে রকম নয়।

মোবাইল ফোন অপারেটররা যদি এই অভিযোগ করে যে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ আইন অনুসারে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমি নিজেও মনে করি, বিটিআরসি এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। টেলিযোগাযোগ আইনে এর শাস্তি অনেক বেশি। কিন্তু সে ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি। বিটিআরসির প্রতি আস্থা না থাকার বা বিষয়টি না জানা থাকার কারণে প্রতারিত গ্রাহকরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিকার চায়। কিন্তু হতাশাজনক ঘটনা হচ্ছে, ভালো কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন হওয়ার পরও প্রায় ২১ মাস ধরে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও তাদের অভিযোগ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। মোবাইল ফোন অপারেটদের রিটের কারণে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থে এসংক্রান্ত রিটের শুনানি শুরু হলে আমরা এ মামলায় পক্ষ হতে চাই। মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক সেবার অনেক অভিযোগ রয়েছে। অনেকে এর শিকার হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি দুর্ভোগের আশঙ্কায় সবাই অভিযোগও করে না। আমাদের প্রত্যাশা, মহামান্য আদালত এর দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন এবং মোবাইল ফোন গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

লেখক : সভাপতি, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা