kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মধুর ক্যান্টিনে ‘মধুর সময়’

নতুন তফসিলসহ ছাত্রদলের সাত দফা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মধুর ক্যান্টিনে ‘মধুর সময়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘ ৯ বছর পর ক্যাম্পাসের মধুর ক্যান্টিনে ‘মধুর সময়’ কাটিয়েছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার সকালে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন নেতাকর্মী মধুর ক্যান্টিনে আসে। এর কিছু সময় পর আনুমানিক ৩০ জন নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মধুর ক্যান্টিনে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন। অন্যদিকে আগে থেকেই মধুর ক্যান্টিনে ছিল ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মী। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুতে ঢুকে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সঙ্গে কুশলবিনিময় করে। সাদ্দাম তাদের বসার চেয়ার দেখিয়ে দেন। পরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণ। এ সময় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা যায়। ক্যান্টিনে অন্য টেবিলে বসা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি তুহিন কান্তি দাসের সঙ্গেও কুশলবিনিময় করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মধ্য দুপুর পর্যন্ত অবস্থান করে।

এদিকে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল সকালে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি রাজীব আহসান।

রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত দফা দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করবে, সহাবস্থানটা স্থিতিশীল হবে। তফসিল তিন মাস পেছানো হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত হওয়ার ন্যূনতম তিন মাস পর তফসিল ঘোষণা; অংশগ্রহণমূলক ও ভীতিহীন পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে হলগুলো থেকে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনগুলোতে স্থানান্তর; সব শিক্ষার্থীর ভোটার ও প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত করতে ৩০ বছরের বয়সসীমা বাতিল করা; ছাত্রসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না রাখা; ছাত্রসংগঠনগুলোর কোনো প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের হয়রানি, মামলা বা গ্রেপ্তার না করা; ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত কমিটির পুনর্গঠন এবং ডাকসু গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত ৫(এ) অগণতান্ত্রিক ধারাটি সংশোধন করে ছাত্রসংসদ বিলুপ্তি অথবা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সভাপতি ও ছাত্রসংসদের যৌথ সিদ্ধান্তের বিষয় সংযোজন করা।

রাজীব আহসান বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন হবে, এটাকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি।  আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূরণ করবে, সে বিষয়ে আমরা আন্তরিক ও আত্মবিশ্বাসী।’

প্রার্থিতা চূড়ান্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাজীব আহসান বলেন, ‘আমরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সবার সঙ্গে কথা বলছি। আমরা পুনঃ তফসিল দাবি করছি এখনো। তারপর আমাদের প্রার্থী তালিকা বা অন্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।’

আকরামুল হাসান বলেন, ‘আমরা মনে করি, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক যে রাজনীতির সূচনা হয়েছে, আজ এই পথচলার প্রথম যাত্রা শুরু। আমাদের এই ক্যাম্পাসে অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল আজকে মধুর ক্যান্টিনে এসেছে, তাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে একটা কথাই বলব, আপনারা নামে ছাত্রদল, কিন্তু কাজেকর্মে ছাত্রদের সঙ্গে আপনাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রসংগঠন হিসেবে বলতে চাই, আপনারা সম্মেলন করে সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেন। তা না হলে যে বিষয়টা হবে, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন না এবং সাধারণ ছাত্ররা আপনাদের বয়কট করবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল এত দিন মধুতে না এসে আমাদের দোষারোপ করেছে। কিন্তু তারা আজকে এসে বুঝতে পারল, আমরা কাউকে বাধা দিই না। আমরা আমাদের নিজেদের রাজনীতি করি, যার যার রাজনীতি সে সে করবে। এত দিন পরে এসেছে সেটা ঠিক। আমাদের নতুন কমিটি হয়েছে, ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ডাকসু নির্বাচন করতে হবে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা