kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঋণখেলাপিদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

নৈরাজ্য বন্ধে কমিশন গঠন নিয়ে রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঋণখেলাপিদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট

গত ২০ বছরে কে কে এক কোটি টাকার ওপরের ঋণখেলাপি ছিল তাদের তালিকা ও নাম-ঠিকানা চেয়েছেন হাইকোর্ট। কী পরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থপাচারকারীদের তালিকা এবং কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, অর্থপাচার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আত্মসাতের টাকা দেশ কিংবা বিদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তা ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও

প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুলও জারি করেন।

রুলে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য সব ব্যাংকে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থপাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংকের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই সচিব, আইনসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

ব্যাংকিং খাতে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সুদ মওকুফসংক্রান্ত বিষয় তদন্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে সাত দিনের মধ্যে কমিশন গঠন চেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট আবেদন করা হয়।

গতকাল আদালত আদেশে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নেই। যারা ঋণ নিচ্ছে তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে অর্থনীতিকে দ্রুত একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদালত বলেন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে নিয়ম-নীতি মেনে ঋণ দেওয়ার কথা। যদি তা না মানা হয়, যাঁরা ঋণ নিয়েছেন এবং অর্থ পাচার করেছেন তাঁদের তালিকা করে আদালতে দাখিল করতে হবে।

আদেশের পর অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় যা দেখেছি, তাতে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে অর্থ পাচার হয়েছে বলে আমরা জানি। এই মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে কিছুদিন আগে একটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে আমেরিকা থেকে। কত হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে তা সেখানে বলা হয়েছে। কোন কোন দেশে এই টাকা গেছে তাও ওই রিপোর্টে আছে। এই রিপোর্ট ব্যাংকের গভর্নরকে সংগ্রহ করে আদালতকে জানাতে হবে।’ তিনি বলেন, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এক-দুই লাখ কোটি টাকার ঋণ বিভিন্ন লোকে পরিশোধ করছেন না। ফলে ব্যাংক খাতের এই অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করতে না পারলে জনগণের রক্ষিত টাকার কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। এ জন্যই আদালতে রিট আবদেন করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা