kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

গরু জব্দ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ৩

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গরু জব্দ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ৩

গরু জব্দ করা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বিজিবির চার সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বকুয়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বহরমপুর রুহিয়া এলাকার নবাব আলী (৩৫), সাদেক আলী (৪৫) এবং বহরমপুর এলাকার নূর ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২)। আহতদের মধ্যে আছে সাদেকুল ইসলাম, মিঠু, ইসহাদিতি, ছাদেকুল, তৈমুর, রাসেল, জয়নাল, মুনতাহারা, বাবু, নওশাদ, হান্নান, জয়নুল ও নুর নাহার। তাদের দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বহরামপুরের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দীনের ভাষ্য, ওই গ্রামের মাহাবুব আলী প্রায় ছয় মাসে আগে কয়েকটি গরু কিনে বাড়িতে লালন-পালন করছিলেন। সেগুলো বিক্রির জন্য গতকাল সকালে স্থানীয় যাদুরানী বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় গরু মনে করে মাহাবুবের কাছ থেকে সেগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে মাহাবুবের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ও বিজিবি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে নবাব আলী ও সাদেক আলী নিহত হন। আর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় জয়নুলের।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ও যাদুরানী মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক সোহেল রানা জানান, বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন সময় তল্লাশির নামে গ্রামের সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। তারা মানুষের বাড়ি থেকে গরু জোর করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে হয়।

নিহত সাদেক আলীর শ্বশুর ইসলাম উদ্দীন জানান, সাদেকের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের কেনাকাটা করতে তিনি যাদুরানী হাটে যাচ্ছিলেন। সাদেক কোনো চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

নিহত নবাবের চাচা শফির উদ্দীন জানান, নবাব সম্প্রতি বিএ পাস করেছেন। তিনি টিউশনি করতেন। পারিবারিক কাজে তিনি যাদুরানী হাটে যাচ্ছিলেন। বিজিবির গুলিতে তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ‘বিজিবির একটি টহলদল চারটি গরু জব্দ করে ফেরার পথে চোরাকারবারিরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালায়। তাদের অনুরোধ করা হলেও শোনেনি। একপর্যায়ে তারা বিজিবির অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। এ সময় চার বিজিবি সদস্য আহত হলে প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিজিবি গুলি ছোড়ে।’

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা