kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেকারের সংখ্যায় বিস্মিত সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেকারের সংখ্যায় বিস্মিত সবাই

দেশে বেকারের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন আছে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বেকারের যে তথ্য দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি বেকার দেশে আছে। কিন্তু সংজ্ঞার মারপ্যাঁচে বেকারের সংখ্যা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারের যে সংজ্ঞা বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয়, তা দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি উন্নত বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে করেন তাঁরা।

তাঁরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বেকারের সংজ্ঞাটি বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তাঁরা বেকারের সংজ্ঞা পরিবর্তনের তাগিদও দিয়েছেন।

বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপের সব শেষ তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানিয়েছেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সারা দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। বেকারদের মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী অর্থাৎ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ। যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস।

বেকারের সংখ্যা নিয়ে বিবিএসের এই তথ্যে কালের কণ্ঠ’র কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বরকত-ই খুদা, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তাঁদের মতে, দেশে বেকারের সংখ্যা সত্যিকার অর্থে অনেক বেশি। কিন্তু বেকারের সত্যিকারের চিত্র বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপে উঠে আসে না।

আর বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে তাঁরা অসহায়। কারণ আইএলওর বিদ্যমান সংজ্ঞা মেনেই বিবিএস বেকারের সংখ্যা নির্ণয় করে।

আইএলওর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে যদি এক ঘণ্টার জন্য কাজ না করে থাকে এবং এক মাস কাজ খোঁজে কিন্তু কাজ না পেয়ে থাকে, তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়। সে অনুযায়ী, দেশে এখন (২০১৬-১৭ অর্থবছরে) বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। আর যদি কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘণ্টার জন্য হলেও মজুরির বিনিময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকে তাহলে তাকে কর্মক্ষম ধরা হয়। তাকে বেকার বলা যাবে না।

যদিও বছর দুয়েক আগে আইএলওর বেকারের সংজ্ঞা পরিবর্তনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছিল বিবিএস। কিন্তু সংজ্ঞা পরিবর্তন করলে বেকারের সংখ্যা বেশি দেখাবে—সরকারের এমন চাপে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে ভাবতাম এত কম বেকার কিভাবে সম্ভব। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, আইএলওর সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে বা নিজের জন্য কোনো কিছু উৎপাদন করে তাদের বেকার হিসেবে ধরা হয় না।’

এদিকে সংজ্ঞার মারপ্যাঁচের কারণে সত্যিকারের বেকার হয়েও বেকারের তালিকার বাইরে আছে দেশের ৪৬ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে পুরুষ-নারী উভয়ই আছে। বিবিএসের হিসাবে তাদের বেকার ধরা হয় না। এই ৪৬ লাখ শ্রমশক্তিকে কর্মক্ষম হিসেবে ধরছে বিবিএস।

আইএলওর বিদ্যমান সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ বছরের তদূর্ধ্ব কোনো ব্যক্তি এক সপ্তাহে এক ঘণ্টার জন্য হলেও মজুরির বিনিময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তাকে কর্মক্ষম ধরা হয়। সে হিসাবে এরা বেকার নয়। অথচ তারা সত্যিকার বেকার।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা