kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুধ দই গোখাদ্যে ভেজাল : হাইকোর্টের স্যুয়োমোটো রুল

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ

দুধ, দই ও গোখাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুধ, দই ও গোখাদ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে একটি কমিটি গঠন করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেছেন, দুধ, দই ও গোখাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা একটি মারাত্মক দুর্নীতি। এটি একটি অপরাধ। এই দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। আদালত বলেন, খাদ্যে ভেজালের মাধ্যমে জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের কারিগরি ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসের প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেছেন।

দুধ, দই ও গোখাদ্যে কীটনাশক, ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত। সরকারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘গরুর দুধেও বিষের ভয়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আদালত এই প্রতিবেদন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় আদালত সেখানে উপস্থিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিকের বক্তব্য জানতে চান। এই তিন আইনজীবী তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেন। এরপর আদালত আদেশ দেন।

আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খাদ্যে ভেজালের ফলে মানুষের কিডনি, লিভার নষ্ট হচ্ছে। ক্যান্সার হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

দুধে ভেজাল মেশানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হবে। আদালত বলেন, এভাবে নীরবে হত্যা করা হচ্ছে। জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলছে। আদালত বলেন, মানুষ শুধুই টাকার পেছনে ছুটছে। নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবছে না। স্বাস্থ্যই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে এত টাকা-পয়সা দিয়ে হবেটা কী?

আদালতের আদেশে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরুর দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গোখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কী পরিমাণ কীটনাশক, ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে তা নিরূপণ করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে প্রতি ছয় মাস পর পর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য মানুষ যাতে সঠিক তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে সে জন্য কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশ কার্যকর করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, খাদ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশসচিবের কাছে আদেশের কপি সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুলে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা খাদ্য সমন্বয় কমিটির সব সদস্য ও বিএসটিআইয়ের চেয়ারম্যানের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও আইগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ, দই ও গোখাদ্য উত্পাদন, পরিবহন, প্যাকেটজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ করা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও খোলাবাজার থেকে এসব ভেজাল দুধ, দই ও গোখাদ্য অপসারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে আইনের আওতায় এনে কেন সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব, খাদ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, কৃষিসচিব ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৩ মার্চ পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা