kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

লুট করতেই ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লুট করতেই ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যা

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যার পর বাসা থেকে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালপত্র খোয়া গেছে। এ ঘটনায় রুমা ওরফে রেশমা ও স্বপ্না নামের দুই গৃহকর্মীকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে গত দুই দিনেও তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরিবারের লোকজন, প্রতিবেশী, নিরাপত্তারক্ষী, গাড়িচালকসহ অন্তত ৫০ জনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। তারা সবাই ঘটনার জন্য দুই গৃহকর্মীকেই সন্দেহ করছে।

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মাহফুজা চৌধুরীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এরপর তাঁর সাবেক কর্মস্থল ইডেন মহিলা কলেজসহ এলিফ্যান্ট রোডের বাসার সামনে ও স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় বনানী কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানান, মাহফুজা চৌধুরীকে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ঠোঁট, মুখ ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ভাঙা ছিল হাতের একটি আঙুল। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা যায়, ঘটনার সময় অনেক ধস্তাধস্তি হয়েছে। একা কারো পক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়।

ঘটনাস্থল সুকন্যা টওয়ারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা (ব্যবস্থাপক) হেলাল উদ্দিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে রবিবার ৩টার দিকে দুই নারীকে লিফট ব্যবহার করে বের হতে দেখা যায়। এদের রেশমা ও স্বপ্না হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

নিহতের আরেক গৃহকর্মী রাশিদাকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হলে তিনি বলেন, ওই দুই নারীকে তিনি চিনতে পারছেন না। এ সময় সেখানে উপস্থিত মাহফুজা চৌধুরীর গাড়িচালক সুজন বলেন, ‘রবিবার ৩টার পর ম্যাডাম (মাহফুজা চৌধুরী) বেতন দেওয়ার জন্য আমাকে বাসায় ডেকেছিলেন। বাসায় গিয়ে ম্যাডামের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা বেতন নিই। এ সময় বাসায় স্বপ্না ও রেশমাকে দেখেছিলাম।’

এদিকে মাহফুজা চৌধুরী হত্যার ঘটনায় গতকাল সকালে রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন তাঁর স্বামী ইসমত কাদির গামা। মামলায় তাঁর বাসার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে গামা জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ব্যাবসায়িক কাজে রবিবার সকাল ১০টায় স্ত্রী মাহফুজা চৌধুরী পারভীন, কাজের মেয়ে রাশিদা (৫৫) ও রুমা ওরফে রেশমা (৩০) এবং স্বপ্ন (৩৫) রেখে বাইরে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসায় ফেরার আগে তিনি স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে বন্ধ পান। এরপর বাসায় ফিরে কলিংবেল চাপলে ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেনি। পরে ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে গৃহকর্মী রাশিদা দরজা খুলে দেন। ভেতরে ঢুকে তিনি স্ত্রীর শয়নকক্ষের দরজা আটকানো দেখতে পান। চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকেই তিনি স্ত্রীকে খাটের ওপর চিত অবস্থায় দেখতে পান। মাহফুজার মাথাসহ বুক পর্যন্ত কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিল। গলায় ছিল ওড়না পেঁচানো। এ সময় গামা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যার পর তাঁর বাসায় লুট করা হয়েছে। ঘাতকরা মাহফুজা চৌধুরী ও তাঁর নাতির গলার সোনার হার, হাতের সোনার চুরি, হাতের সোনার আংটিসহ ২০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। যার মূল্য ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঘাতকরা ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনসেট ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এজাহারভুক্ত দুই গৃহপরিচারিকা স্বপ্না ও রেশমাকে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সন্দেহভাজনদের মধ্যে স্বপ্না ও রেশমার বয়স আনুমানিক ৩৬ ও ৩০ বছর। রেশমার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মজিরদিতে। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ। আর স্বপ্নার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনায়। তাদের ধরতে গ্রামের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাকিফা নামের এক নারীর মাধ্যমে স্বপ্না ও রেশমা ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে চাকরি পেয়েছিল। তাকেও এ ঘটনায় সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর সেও পলাতক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা