kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

তফসিল ঘোষণা

পড়ে রইল দাবি, ভোট ১১ মার্চ

► ছাত্রলীগ উৎফুল্ল ► ছাত্রদলের প্রত্যাখ্যান ► বাম জোট শঙ্কায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পড়ে রইল দাবি, ভোট ১১ মার্চ

এবার তফসিলও ঘোষণা হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের। গতকাল সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান। এর পরপরই প্রতিটি আবাসিক হলের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষরা। প্রায় তিন দশক পর আগামী ১১ মার্চ এ নির্বাচন হচ্ছে। এ খবরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ছাত্রলীগ বের

করে আনন্দ মিছিল। ক্যাম্পাস বিতাড়িত ছাত্রদল সহাবস্থান নেই অভিযোগ তুলে তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। হলে ভোটকেন্দ্র রেখেই তফসিল ঘোষণা করায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর দুই জোট প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।

তবে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও নির্বাচন হতে চলেছে, সেই লক্ষ্যে তফসিলও ঘোষণা করা হয়ছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নির্বাচনী আমেজের মধ্যে রয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে উন্মুখ হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা এমন ছাত্র রাজনীতি চায়, যারা তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।’

তফসিলে বলা হয়, খসড়া ভোটার তালিকা ১১ ফেব্রুয়ারি হলে এবং ডাকসুর সাইটে  (ducsu.du.ac.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। আপত্তি থাকলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি হল প্রাধ্যক্ষের অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ২৬ ফেব্রুয়ারি রিটার্নিং অফিসার বরাবর জমা দিতে হবে। ২ মার্চ দুপুর ১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ৩ মার্চ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা এবং ৫ মার্চ সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রতীক্ষিত তফসিল পেয়ে বাম ছাত্রসংগঠনগুলো সন্তোষ প্রকাশ করলেও হলেই ভোটকেন্দ্র স্থাপনে পুরনো বিধির পক্ষে প্রশাসনের অটল অবস্থানে তারা ক্ষুব্ধ। এই ধারার ছাত্রনেতাদের আশঙ্কা, আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের একচেটিয়া থাকায় হলে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্ভব নাও হতে পারে। তাদের ধারণা, বাইরে অবস্থান করা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অনেকে বর্তমান পরিবেশে হলে ভোট দিতে হয়তো আসবে না। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে সবার সহাবস্থান ও হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিটি গ্রাহ্য করা হয়নি। বিশেষ করে একটি ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে প্রশাসন একমুখী আচরণ করছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক নির্বাচন হতে পারে না। আমরা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আন্দোলন করব, পাশাপাশি প্যানেল ঘোষণা নিয়েও কাজ করব। সব মিলিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে প্রস্তুত আমরা।’

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এই তফসিলে সন্তুষ্ট নই। তফসিল গ্রহণযোগ্য হয়নি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আরো বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছি, কিন্তু প্রশাসন কর্ণপাত করেনি।’ এই তফসিলেই নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। দলীয় ফোরামে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের স্বার্থেই নির্বাচন সাজানো আয়োজন।’

তফসিল ঘোষণার পর অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে কালের কণ্ঠ। তাঁরা সবাই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সেলিম রায়হান বলেন, ‘ছাত্রসংসদ ফি দিলেও কার্যকর সংসদ মেলেনি। হলে থাকার জায়গা হয় না, খাবারের মানও নিম্ন। কিন্তু কেউ সে বিষয়ে কথা বলে না। ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার ও স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারব ভেবে ভালো লাগছে। তবে সুষ্ঠু ও ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম। কিন্তু তিনি হলে থাকার সুযোগ পাননি। হলে গাদাগাদি করে থাকার চেয়ে মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে লেখাপড়া করছেন। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হলগুলো ছাত্রলীগের দখলে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ কম। কেউ বলতে গেলে মারধরের মুখোমুখি হতে হয়।’

মন্তব্য