kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশেষজ্ঞ মত

সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে

ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে

ওষুধের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া মনিটরিংয়ে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্যা তো রয়েছে অন্য জায়গায়। বিশেষ করে ওষুধের ভোক্তা হচ্ছে রোগী। কোনো রোগী যদি ওষুধের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়, তখন অনেকেই তা তাত্ক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না।

অনেকে মনে করে, এটা হয়তো তাঁর অন্য কোনো সমস্যা বা স্বাভাবিক কোনো প্রতিক্রিয়া। ফলে ওই রোগী ক্ষতির শিকার হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আরেক সমস্যা হচ্ছে, নির্দিষ্ট ডাক্তারকে জরুরিভাবে খবর পৌঁছানো। বেশির ভাগ ডাক্তারই এত ব্যস্ত থাকেন যে তাঁরা সাধারণত রোগীর ফোন ধরেন না, রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দেন না। ডাক্তারের কাছ থেকে কোনো রোগী বাসায় গিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুসারে ওষুধ খাওয়ার পর যদি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে ওই রোগী তখন কিভাবে ডাক্তারকে তাত্ক্ষণিক বিষয়টি জানাবেন? সেই পথ কি আমাদের দেশে এখন আছে? এমন অবস্থায় রোগী হয়তো কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাবেন, সেখানে হঠাৎ করে আরেকজন চিকিৎসকের পক্ষে কি আগের ওষুধের প্রতিক্রিয়া ধরতে পারা খুব সহজ? আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে তো সেই মাত্রার দক্ষ বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন না। এমন অবস্থায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে রোগীর অবস্থা খারাপ তো হবেই।

আবার কোনো ওষুধে কোনো রোগীর সমস্যা হলেও বেশির ভাগ ডাক্তারই তা ঠিকমতো রিপোর্ট করেন না নিজের অবস্থান খারাপ হওয়া বা রোগীর তোপে পড়ার আশঙ্কায়। বিষয়টি তারা চেপে যান নানা কৌশলে। বড়জোর ওষুধ পাল্টে দিয়েই নিজের দায় সেরে ফেলেন। কিন্তু এডিআর প্রটোকল অনুসারে এমন ঘটনায় ডাক্তারকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ফরমে রিপোর্ট করতে হবে এডিআর মনিটরিং সেলের কাছে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ চিকিৎসকের মধ্যে এখনো সেই সচেতনতা বা নৈতিকতা তৈরি হয়নি। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। ওষুধ দেওয়ার আগে অনেকবার ভাবতে হবে। রোগীর উপসর্গ আর পরীক্ষার রিপোর্ট মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই ওষুধ দিতে হবে। একসঙ্গে যখন একাধিক ওষুধ দেন, তখন দুই ওষুধের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বেশি করে নজরে রাখতে হবে। তবেই সমস্যার অনেকটা সুরাহা হতে পারে।

আমাদের দেশে ওষুধের ঝুঁকির আরেক কারণ হচ্ছে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিরা, যাঁরা ডাক্তারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁদের মধ্যে কতজন ফার্মাসিস্ট আছেন, সেটা দেখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টের কোনো বিকল্প নেই।

পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষকে এডিআর মনিটরিংয়ে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা নিয়ে পথ চলতে হবে। নয়তো সমস্যার সমাধান আসবে না।

লেখক : অধ্যাপক ড. মুনীর উদ্দিন আহমেদ

ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা