kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

৪০% ডাক্তারের ফাঁকিবাজি ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪০% ডাক্তারের ফাঁকিবাজি ধরা

দেশের আট জেলার সরকারি ১১ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালানো অভিযানের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ চিকিৎসককে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে সাতটি হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসকের হার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। অভিযানকালে একমাত্র মুগদা জেনারেল হাসপাতালে সব চিকিৎসককে উপস্থিত পাওয়া যায়।

আট জেলার ১১ হাসপাতালের মধ্যে ঢাকার তিনটি হলো কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতাল, মা ও শিশু সদন এবং মুগদা জেনারেল হাসপাতাল। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো হলো ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাবনার সদর জেনারেল হাসপাতাল ও আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দুদক জানায়, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬)। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

অভিযান শেষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযানের বিষয়ে তথ্য জানান দুদকের এনফোর্সমেন্ট দলের সমন্বয়ক ও সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকাসহ আট জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার সময় চিকিৎসকদের কাজের সময়ের রোস্টার পর্যালোচনা করে দেখা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৩০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৯২ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের ৪০ শতাংশ। ঢাকার বাইরের সাত জেলার যে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালানো হয়, সেখানকার অবস্থা আরো খারাপ। দেখা গেছে, ১৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮১ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। তবে অভিযানকালে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সব চিকিৎসককে উপস্থিত পাওয়া যায়।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেক্টরে এ অবক্ষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবসেবার চেতনা না থাকলে চিকিৎসাসেবা পরিত্যাগ করা উচিত। তবে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে দুদক কঠোর অবস্থান নেবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদের চাকরি হারাতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সারা দেশের স্বাস্থ্য সেক্টর দুদকের নজরদারিতে থাকবে।’

দুদক জানিয়েছে, ভুক্তভোগী রোগীরা জানায় উপজেলা/মফস্বলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে সময় দিচ্ছেন। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীর্ষ কর্মকর্তারা মাসের বেশির ভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন। সেই সুযোগে কনসালট্যান্ট ও মেডিক্যাল অফিসাররাও কর্মস্থলে ঠিকমতো হাজির থাকেন না। অনেকে সপ্তাহে দু-এক দিন হাজিরা খাতায় সই করে পুরো মাস অনুপস্থিত থাকেন এবং পুরো মাসের বেতন উত্তোলন করেন।

ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা : দুদক আরো জানায়, রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অভিযানকালে জরুরি বিভাগের কর্মচারী মো. আবু মুসা ভূঞা (স্ট্রেচার বিয়ারার) দায়িত্বরত অবস্থায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় দুদকের টিমের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। অভিযান পরিচালনাকারী টিমের সুপারিশক্রমে তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মুগদা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আমিন আহমেদ খানের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা আপিল বিধি ২০১৮ মোতাবেক তাঁকে (মো. আবু মুসা ভূঞা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা