kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিএনপিকে ছাড়াই সভা ঐক্যফ্রন্টের

পুনর্নির্বাচন দাবিতে সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপিকে ছাড়াই সভা ঐক্যফ্রন্টের

ফাইল ছবি

বিএনপির কোনো প্রতিনিধির অংশগ্রহণ ছাড়াই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নাগরিক সংলাপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। একাদশ জাতীয় সংসদ

নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ওই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করবে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে যেসব দল অংশ নিয়েছে তাদের সবাইকে সেই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর কাউকে সেই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। গতকাল ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

ঐক্যফ্রন্টের সব দলের প্রতিনিধিসভায় উপস্থিত থাকলেও বিএনপির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। যদিও ফ্রন্টের নেতারা বলছেন, বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অন্য বৈঠক থাকায় তাঁরা আসতে পারেননি। গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ থাকায় বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি।  

বৈঠক শেষে আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নাগরিক সংলাপের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলাম। আগামী ২৮ তারিখের জন্য হলও বুকিং করেছিলাম। এই তারিখটা পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন হেলথ চেকআপ করতে বিদেশি যাবেন। উনি ফিরে এলে আমরা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই সংলাপ করব। সমাজের সবস্তরের শ্রেণি-পেশার এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ধাপে ধাপে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ যাতে ভোটের অধিকার ফেরত পেতে পারে; গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নাগরিক অধিকার ফেরত পেতে পারে তার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখব। অস্থির হয়ে তাড়াহুড়া করে আমরা কোনো কর্মসূচি দিতে চাচ্ছি না। আমরা চিন্তাভাবনা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি দেব।’

বিএনপির মহাসচিব বা দলটির অন্য কোনো প্রতিনিধির বৈঠকে না থাকার কারণ জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি অসুস্থ সে জন্য আসতে পারেননি। বৈঠকে আসার কথা ছিল ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর বাবুর (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়)। উনারা একটা জায়গায় আটকা পড়েছেন। বিএনপির নিজস্ব কিছু বৈঠকে অংশ নেওয়ায় তাঁরা যথাসময়ে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। আগামী মিটিংয়ে আমরা একসঙ্গে হব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, ‘আমরা প্রথমে যে অবস্থায় শুরু করেছি এখনো ঐক্যফ্রন্ট একই জায়গায় আছি। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।’

বিএনপির একাধিক নেতা অবশ্য কালের কণ্ঠকে জানান, গত মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে ছিলেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা