kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদন

ভোটের আগে সহিংস নিপীড়নের শিকার বিরোধীরা

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের আগে সহিংস নিপীড়নের শিকার বিরোধীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনাকারীরা সহিংস নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এ বছরের বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে এ অভিযোগ স্থান পেয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ আরো অভিযোগ করেছে, জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতা, নির্যাতন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িয়েছে। এসব নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধী রাজনীতিক,সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার সদস্য ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। বিরোধী সদস্যদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণসহ গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যে ২০১৮ সালের ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এইচআরডাব্লিউ দাবি করেছে।

এইচআরডাব্লিউর ৬৭৪ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদনে শতাধিক দেশের গত বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। এটি ওই সংস্থাটির ২৯তম বৈশ্বিক প্রতিবেদন।

এ প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে ‘মাদকবিরোধী লড়াইয়ে’ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর হাতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে এইচআরডাব্লিউ উল্লেখ করেছে। আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের হামলা এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ বলেছে, নির্বাচনের আগে তুচ্ছ অভিযোগে সরকার শত শত বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থককে আটক করেছে। সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্বজনদের সমালোচনাকারীদের গ্রেপ্তারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা হয়েছে বলে এইচআরডাব্লিউ দাবি করেছে। আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে ১০৭ দিন কারাগারে আটকে রাখা এর অন্যতম উদাহরণ বলে এইচআরডাব্লিউ উল্লেখ করেছে।

এইচআরডাব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এই জয়ের জন্য সরকার হাজার হাজার বিরোধী সমর্থকের বিরুদ্ধে নির্লজ্জভাবে মামলা দিয়েছে এবং স্বাধীন মত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে।’

ব্র্যাড অ্যাডামস অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতা ধরে রাখতে শেখ হাসিনার সরকার নিজেদের নাগরিকদের অধিকার খর্ব করতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে।’

সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, গৃহে নির্যাতন ও এসিড হামলা থেকে নারীদের রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ বলেছে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকারের অঙ্গীকার সত্ত্বেও আইনে ‘বিশেষ’ প্রেক্ষাপটে ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশুদের বিয়ের সুযোগ আছে। রানা প্লাজা ভবন ধসের পাঁচ বছর পর সরকার পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় সংস্কার কার্যক্রমে বিদেশি নজরদারি বন্ধ করে দিয়েছে।

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আসা এখনো অব্যাহত থাকায় মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ও সরকারি ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সুনির্দিষ্ট কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে আশ্রয় ও শিক্ষাবিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণে সরকার বাধা দিয়েছে। সরকারের যুক্তি, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই শরণার্থী সমস্যার সমাধান। তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জীবন ও স্বাধীনতা বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা