kalerkantho


জনপ্রশাসনে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি দুর্নীতি করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা

বেতন এত বাড়িয়েছি তবু কেন দুর্নীতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বেতন এত বাড়িয়েছি তবু কেন দুর্নীতি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গতকাল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে সরকারের বার্তা প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম সদ্যঃপ্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত এ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি এখন এ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে রয়েছেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৭.৪ শতাংশ ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধির হার সরকার ১০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমি বলব, আমরা যে লক্ষ্য স্থির করেছি, সেটা আমরা করতে পারব। সে জন্য দরকার সুশাসন। দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।’

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমি বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এত বেশি বৃদ্ধি করে দিয়েছি, সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে এখন আর ওই দুর্নীতির প্রয়োজন নেই, যা প্রয়োজন সেটা তো আমরা মেটাচ্ছি। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে?’

তিনি বলেন, ‘এখানে মানুষের মনমানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট একটা নির্দেশনায় আপনাদের যেতে হবে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।

কেউ যদি দুর্নীতি করে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে আমরা সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিচ্ছি। সেগুলো যদি আমরা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, অবশ্যই আমরা (১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি) অর্জন করতে পারব। সে ক্ষেত্রে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আমরা যেমন ঘোষণা দিয়েছি, তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছি।’ সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি যাতে না হয় সে জন্যই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ‘ব্যাপকভাবে’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনা হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনে শুধু বয়সের ভিত্তিতে পদোন্নতি না দিয়ে দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কে কত বেশি কাজ করবে, সততার সঙ্গে কাজ করবে, সেগুলো সব বিবেচনা করে কিন্তু পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।’ এ ছাড়া পদ ফাঁকা পেলেই পদায়ন না করে যার যে বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ রয়েছে তাঁকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পদায়ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল সুবিধার বিস্তৃতি ঘটানো গেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। একটা সময় বাংলাদেশে দরপত্র বাক্স ছিনতাই হতো। আমরা ই-টেন্ডারে চলে গেলাম। এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনা যায় না। এভাবেই আমি মনে করি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি অনেকটা নিশ্চিত করা যায়। আমরা সেটাও করব।’

দেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে সারা বিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছি। এখন সেই পাকিস্তানও বলে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দাও। আজকে কিন্তু আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলার সাহসও তাদের নেই। বলতেও তারা পারবে না। কারণ আমরা অনেক এগিয়ে আছি। এই এগিয়ে যাওয়াটা, এই যাত্রাটা আমাদের কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সততা-আন্তরিকতা নিয়ে জনসেবা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পরিচালনার মূল জায়গাটা হলো আপনাদের এই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অনেক বিশাল এক কর্মযজ্ঞ এখানে। সে জন্য আপনাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক অনেক বেশি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাণকেন্দ্র জনপ্রশাসন। সেটা মাথায় রেখে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা আন্তরিকতা নিয়ে ভালোভাবে পালন করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সদ্যঃপ্রয়াত জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও বক্তব্য দেন। আর সচিব ফয়েজ আহমেদ সভার শুরুতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।



মন্তব্য