kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্রেক্সিট চুক্তিতে ‘না’, আস্থা ভোটে টিকে গেলেন টেরেসা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্রেক্সিট চুক্তিতে ‘না’, আস্থা ভোটে টিকে গেলেন টেরেসা

ছবি: ইন্টারনেট

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে চুক্তির খসড়ার ওপর পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে রেকর্ড ব্যবধানে হেরে গেলেও তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে টিকে গেছেন তিনি। হাউস অব কমনসে গত রাতে তীব্র বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে টেরেসার সরকারের পক্ষে ভোট পড়ে ৩২৫টি। বিপক্ষে পড়ে ৩০৬টি। এর ফলে ১৯ ভোটের ব্যবধানে রক্ষা পেল টেরেসার রক্ষণশীল দলের সরকার।

বেক্সিট নিয়ে চুক্তির খসড়ার ভোটাভুটিতে আগের দিন শোচনীয়ভাবে সরকারের হেরে যাওয়ায় চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে দেশটির বিচ্ছেদ ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমনসে ৪৩২-২০২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে টেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান করেন এমপিরা। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে পার্লামেন্টে সরকারি দলের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো এটিকে বিধ্বংসী পরাজয় (ক্রাশিং ডিফিট) বলে আখ্যায়িত করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এটিকে ‘অপমানকর পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছে। এ ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বিরোধী লেবার পার্টি ও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট পরিকল্পনার বিপক্ষে ভোট দেন। পাশাপাশি মের রক্ষণশীল দলের এমপিদের অনেকেই বিপক্ষে ভোট দেন। এই সুযোগে ভোটাভুটির পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন সরকারের বিরুদ্ধেই অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করে বসেন। নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচন চেয়ে আসা করবিনের এই প্রস্তাবের কারণে গতকাল রাতের অনাস্থা ভোটকে টেরেসা-করবিনের লড়াই হিসেবেও দেখছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম।

আগামী ২৯ মার্চ মধ্যরাতে ইইউ থেকে বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) ঘটবে বিটেনের। কিন্তু দুই পক্ষের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়েই চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু মাত্র ৭৩ দিন সময় হাতে থাকতে চুক্তির খসড়া বাতিল করে দিলেন ব্রিটিশ এমপিরা। ২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির চার দশকের সম্পর্কচ্ছেদের রায় দেয় জনগণ। ওই পরাজয়ের কারণে রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে টেরেসা মে হন প্রধানমন্ত্রী। এর পর থেকে ব্রেক্সিটের রোডম্যাপ তৈরি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন তিনি।

গত ডিসেম্বরেই ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে হাউস অব কমনসে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী মে তা পিছিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, হয়তো এই সময়ের মধ্যে এমপিদের সিংহভাগের সমর্থন তিনি আদায় করতে পারবেন।

মঙ্গলবার রাতে হেরে যাওয়ার পরও আশাবাদী দেখা গেল টেরেসা মেকে। তিনি পার্লামেন্টকে বলেছেন, তিনি আশাবাদী, আস্থা ভোটে জয়ী হবেন। আর আগামী সপ্তাহেই ব্রেক্সিট প্রশ্নে আরেকটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন। তবে সম্ভাব্য প্রস্তাবে এমপিরা যদি মন না বদলান, তাহলে কয়েকটি বিকল্প তাঁর সামনে থাকবে। এর একটি হলো ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’। অর্থাৎ ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোনা চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে যাবে। এর আরেকটি বিকল্প আছে। সেটি হলো আরেকটি গণভোট। সে জন্য ইইউর কাছ থেকে সময় চেয়ে নিতে পারে দেশটি। আর মে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে এবং তাঁর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিও নতুন সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সরকারকেও ব্রেক্সিট লড়াই নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে।

এই হিসাব-নিকাশের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টেরেসা মেকে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হলো। গতকাল এ নিয়েই চলছে মে সরকারের দৌড়ঝাঁপ। ক্ষমতাসীন পার্টির এক সিনিয়র নেতা বিবিসিকে বলেছেন, অনাস্থা ভোটে উতরানো অসম্ভব হবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তবে কনজারভেটিভ পার্টির মিত্র নর্দান আয়ারল্যান্ডের দল ডিইউপি ও টোরি দলের বিদ্রোহীরা আশ্বাস দেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করবেন।

তবে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তাঁকে একেবারে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে হবে। টেরেসা অবশ্য ব্রেক্সিটের গণভোটে হেরে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সমর্থন পেয়েছেন।

চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ইইউর প্রতিক্রিয়া : ব্রেক্সিট চুক্তিটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ইইউ ও ইউরোপীয় সরকারগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই প্রত্যাখ্যান ব্রেক্সিট চুক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। একই সঙ্গে সংস্থাটি থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে। এ ব্যাপারে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ ক্লাউদ জাংকার বলেন, ‘আমি ব্রিটেনকে যত দ্রুত সম্ভব তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার আহ্বান জানাচ্ছি। সময় প্রায় শেষের পথে।’ ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, যদি চুক্তি অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং কেউই চুক্তির পক্ষে না থাকে, তাহলে একসঙ্গে থেকে যাওয়াই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক সমাধান। এ ব্যাপারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, এখন যা চাপ তা ব্রিটেনের ওপরই। তবে চুক্তির উন্নতি ঘটানো সম্ভব। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা