kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংসদে বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার

আবদুল্লাহ আল মামুন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সংসদে বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার

সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বঞ্চিতরা উপজেলা নির্বাচনে অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন। তবে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাঁদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হবে। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন কারণে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজের সঙ্গে জড়িত, স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক চোরাকারবারের অভিযোগ থাকা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানরা বাদ পড়বেন। সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন, উপজেলার এমন চেয়ারম্যানরাও বাদের তালিকায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তাঁরা  জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জরিপ রিপোর্ট এবং দলের জেলা ও উপজেলা শাখা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসছে ধরে নিয়েই চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থী তালিকা।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাঁরা মনোনয়ন চাইবেন তাঁদের তৃণমূল থেকে সুপারিশ নিয়ে আসতে হবে। দলের জেলা-উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তিনজনের নাম আমাদের কাছে জমা দেবেন। সেখান থেকে জরিপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবেন।’ তিনি বলেন, নেত্রীর জরিপ হয়েছে, সেই জরিপে যাঁরা এগিয়ে এবং যোগ্য তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাঁরা মূল্যায়নের দাবি করতে পারবেন না। অর্থাৎ যেসব উপজেলা চেয়ারম্যান দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাঁরা মনোনয়ন পাবেন না। সদ্যঃসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জিয়াউর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে নিজ দলের প্রার্থী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কাজ করেন। ফলে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন।  স্থানীয় সর্বস্তরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানে। আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডেও অভিযোগ করা হয়েছে।

নিজ দলের উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরোধিতা প্রসঙ্গে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার আসনে এ রকম হয়েছে। এ জন্য আমি পরাজিত হয়েছি। তাই আমার নিবেদন যাঁরা এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, দলের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁদের যেন উপজেলাসহ কোনো নির্বাচনেই মনোনয়ন না দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সেন্টিমেন্টও তাই।’

আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলেই তাঁরা মনে করেন। তাঁর মতে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। তার পরও তারা গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে স্থগিত তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী উকিল আবদুস সাত্তার বিজয়ী হন। এর অর্থ আগামীতে অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তারা অংশগ্রহণ করবে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বৈঠকের পর দলটির এক নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালের কণ্ঠকে জানান, সদ্যঃসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক যোগ্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পাননি। এ কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য অথচ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি—এমন ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মীদের যথার্থ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। দেখা গেছে, মনোনয়ন পাননি অথচ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, তাঁদের বিষয়টি শেখ হাসিনা অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন বলে জানান ওই নেতা। সদ্যঃসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় চার হাজার ২৩ নেতাকর্মী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে।  সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৮ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দেয়। বাকি আসন জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে তিন হাজার ৭৬৫ মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হন। তাঁদের মধ্য থেকে নারী প্রার্থীদের কিছুসংখ্যককে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। গত মঙ্গলবার থেকে সভাপতির ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এই মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও গ্রহণ করা হবে। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বোর্ড গঠিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এ জন্য জরিপ রিপোর্ট এবং জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সুপারিশ আমলে নেওয়া হবে। শিগগিরই এই মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক আহ্বান করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগামী মার্চ থেকে পাঁচ ধাপে ৪৯২ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা