kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিশেষ লেখা

সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি দমন সম্ভব

ড. ইফতেখারুজ্জামান   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি দমন সম্ভব

সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটা অঙ্গীকার আছে। এ অঙ্গীকার তাদের ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সে কথাটা বলেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মন্ত্রীরাও বলেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সেটা সম্ভব। অঙ্গীকারগুলো সরকার বাস্তবায়ন করবে কিভাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। আর দুর্নীতি দমন কমিশন একা কতটা করবে? যেভাবে সরকার গঠিত হয়েছে, সেখানে তো জবাবদিহির কোনো সুযোগ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্র যেমন হওয়া দরকার তেমন নেই। এখানে জবাবদিহির যে মৌলিক উপাদানগুলো থাকে সেগুলো কিন্তু অনুপস্থিত। যাঁরা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন তাঁরা নিজেরাই নিজেদের জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন—সেটাই হলো মূল কথা।

যারাই দুর্নীতি করে, তারা সরকারের হোক আর বাইরের হোক, বিশেষ করে সরকারের ভেতরের কেউ হলে দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এটা এক নম্বর পূর্বশর্ত। এটা বলা সহজ, করা সহজ নয়। এখন করণীয় আরো অনেক কিছুই আছে। যেমন স্বার্থের দ্বন্দ্ব। যারা সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে থাকবে, সরকারের এমপিদের আশপাশে থাকবে, তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করবে। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুবই স্বাভাবিক। তবে এটা দুর্নীতির বিকাশ করা ছাড়া কিছুই করবে না। তাই যাঁরা সরকারের দায়িত্বে আছেন তাঁদের কেউই ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হবেন না; মন্ত্রী ও এমপি হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য তার বাইরে কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন না; কোনো প্রকার লেনদেনের মধ্যে থাকতে পারবেন না; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুপারিশও করতে পারবেন না।

তদবির ও সুপারিশও বন্ধ করা জরুরি। এটা তারা করতে পারে। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব নেতাকর্মী আছে তাদের নানা রকম চাওয়া-পাওয়া আছে—সেগুলো যেন জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। যাঁরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তাঁদের একটা আশা আছে—‘আমরা একটা সুফল পাব।’ সেটা যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে হয় তাহলে দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স শুধু কাগজে-কলমেই থাকবে। সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে সরকারের অনুমতি লাগবে—এই আইন বাতিল করতে হবে। এটা করা না হলে দুদক কোনো কাজই করতে পারবে না। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল কিংবা সংশোধন করতে হবে। নয়তো মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে না। দুর্নীতি নির্মূলের জন্য অনুসন্ধানী  সাংবাদিকতা জরুরি। সেই অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

দুদক যা করতে পারে—নির্বাচনের প্রার্থীরা যে হলফনামা দিয়েছেন সেটি কতটা যথার্থ, বাস্তবে তেমন সম্পদ আছে কি না তা দেখা। দ্বিতীয়ত, হলফনামা অনুযায়ী অর্থ সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে সেটি তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটা লক্ষ করা। যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তাহলে বিচারের আওতায় আনা। তৃতীয়ত, এই হলফনামাকে বেজলাইন হিসেবে ধরে নিয়ে প্রতিবছর সেটা হালনাগাদ করার ব্যবস্থা করতে পারে। এটা চাইলে সরকার করতে পারে। কিভাবে বাড়ল, কোন খাতে বাড়ল সেটা যাচাই করা যেতে পারে।

সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে অনুমতি নিতে হবে—এটা দুর্নীতি নির্মূলে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। কাজেই এটাকে সংশোধন করতে হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধন না করা হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা যাবে না। সেটা সংশোধন না হলে জিরো টলারেন্সের ঘোষণায় কাজ হবে না।

ভূমিমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটি খুব সাধুবাদ পাওয়ার মতো। তিনি যেন এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করেন। বৈধ আয়ের সঙ্গে সেই বিবরণ সামঞ্জ্যসপূর্ণ না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা যদি হয় তাহলে অন্য সব মন্ত্রণালয়ের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আমরা এটাও বলি, শাস্তির সঙ্গে পুরস্কারও থাকবে। শাস্তি হবে দৃষ্টান্তমূলক। ভালো কাজের জন্য যে পুরস্কার সেটাও হতে হবে দৃষ্টান্তমূলক। পুরস্কার ও তিরস্কার দুটিই সমানে থাকবে।

লেখক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা