kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মার্চ থেকে ৫ ধাপে উপজেলা নির্বাচন

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মার্চ থেকে ৫ ধাপে উপজেলা নির্বাচন

এবারও পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর মার্চের প্রথম দিকে এ নির্বাচন শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আট বিভাগে চার ধাপে এবং মেয়াদের বিষয় বিবেচনায় রেখে অবশিষ্ট উপজেলাগুলোর নির্বাচন পঞ্চম ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলাগুলোয় ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনাও নিয়েছে ইসি। গতকাল সোমবার বিকেলে দুই ঘণ্টাব্যাপী কমিশনের ৪২তম সভা শেষে ইসির মিডিয়া সেন্টারে কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিষয় সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

গতকালের কমিশন সভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাদশ সংসদ নির্বাচন  বাতিলের দাবি নিয়েও আলোচনা হয় এবং ওই দাবি নাকচ করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে ইসি সচিব জানান, এসএসসি, এইচএসসি ও রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এ লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। এ নির্বাচন হবে বিভাগওয়ারি। সচিব আরো বলেন, দেশের আট বিভাগের উপজেলাগুলোর চার দিনে চার ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে। বাকিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ কবে হচ্ছে তা বিবেচনায় নিয়ে আরেকটি ধাপে নির্বাচন  শেষ করা হবে। সে হিসাবে মোট পাঁচ ধাপে এ নির্বাচন হবে। তিনি জানান, এ নির্বাচনে সদর উপজেলাগুলোতে পুরোপুরি ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইন অনুসারে উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে এবং নতুন গঠিত উপজেলার ক্ষেত্রে উপজেলা গঠনের পর ৩৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতবারের উপজেলা নির্বাচন আইনত নির্দলীয় হলেও এবার হবে দলীয় প্রতীকে। সে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে উপজেলা পরিষদের প্রার্থী মনোনয়নের এক বিশাল কর্মযজ্ঞও শুরু করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি কমিশন আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই ১৯ জানুয়ারি আগের নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট ছয় ধাপে ওই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়।

ঐক্যফ্রন্টের দাবি ইসির নাকচ : এদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্মারকলিপি গতকাল কমিশন বৈঠকে আলোচনা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের স্মারকলিপিতে এ নির্বাচন ‘অত্যন্ত সুন্দরভাবে’ সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। অন্যদিকে গত ৩ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া তাদের স্মারকলিপিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এ নির্বাচনকে জাতির সঙ্গে নিষ্ঠুর উপহাস বলে উল্লেখ করে।

এ ব্যাপারে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সার্বিক বিষয় নিয়ে কমিশন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কমিশন ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের স্মারকলিপি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছে। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বাতিল, নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে। ভোট শেষে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ফেলেছি আমরা, এখন আর পুনর্নির্বাচন করার সুযোগ নেই। সংক্ষুব্ধ হলে যে কেউ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারেন।’

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ১৭ ফেব্রুয়ারি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সভা শেষে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ  সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব জানান, সংরক্ষিত ৫০ আসনের বরাদ্দ বিষয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দল ও জোটগত অবস্থান জানাতে চিঠি দেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে কমিশনকে জানাতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। বিএনপি ও গণফোরাম থেকে নির্বাচিতরা এখনো শপথ না নিলেও তাঁদের অবস্থান জানার পর করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বিকল্পধারা ২টি, তরীকত ফেডারেশন ১টি, জেপি ১টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ৩টি আসন। এদিকে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ জানুয়ারি।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিল শিগগির : এদিকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর কারণে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী তফসিল শিগগির ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি জানান, সংসদ সচিবালয়ের নোটিফিকেশন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন সম্পর্কে জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেওয়ার আগে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা কখনো ঘটেনি। সে কারণে এই নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ছাড়া সৈয়দ আশরাফের মৃত্যু এমন একসময় হয়েছে যখন তিনি দশম জাতীয় সংসদের সদস্যও ছিলেন। তাঁর দশম সংসদের সদস্য পদটি ২৮ জানুয়ারি পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করবে। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন গত ৩০ ডিসেম্বর। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি তাঁর নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই শপথ গ্রহণের আগে তাঁর মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতিতে  দশম সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা