kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সরকারি জোটে রেখেই বিরোধী ভূমিকায়!

আবদুল্লাহ আল মামুন   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সরকারি জোটে রেখেই বিরোধী ভূমিকায়!

আওয়ামী লীগ তার আদর্শিক জোট ১৪ দলের শরিক অন্য দলগুলোকে এখন বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখতে চায়। ক্ষমতাসীন দলটি মনে করে, ওই দলগুলো সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করলেও তারা থাকবে ১৪ দলীয় জোটে। আবার বিরোধী দল যে ভূমিকা পালন করে সে দায়িত্বও পালন করবে শরিকরা। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের ওই মনোভাব ১৪ দলের শরিক অন্য দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শরিক দলগুলোর নেতাদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ। অবশ্য এমন দ্বিমুখী ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের একেকজনের কাছ থেকে একেক রকম মত পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, “শনিবার দলের যৌথ সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে অর্থাৎ ১৪ দলের শরিকদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বলেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এখন সরকারে। আমি চাই বিরোধী দলেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি থাকুক।’ তিনি শরিক দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর ফলে বিএনপির অনুপস্থিতিতে রাজপথে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।”  

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৪ দলীয় জোট থাকবে। তবে শরিকদের সরকারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দেবে, এটা প্রত্যাশা করি। এর ফলে বিরোধী দলের যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হবে। আর সেটা পূরণ করবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।’ তিনি মনে করেন, ১৪ দলের শরিকরা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক ইস্যুতে এক থেকে কথা বলবে। কারণ সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি কোণঠাসা হলেও তাদের এখনো নির্মূল করা যায়নি।    

১৪ দলের শরিক বিভিন্ন দলের নেতারা অবশ্য সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার বিষয়টি নতুন বলে মনে করছে না। তবে বিরোধী দলের ভূমিকা বা বিরোধী দল হতে হবে এমন তথ্যে কেউ কেউ বিস্মিত। তাঁরা মনে করেন না সরকারি জোটে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা যায়। নেতারা বলছেন, গত ১০ বছরে ১৪ দলের বৈঠকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা তাঁরা করেছেন। ১৪ দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। ওই নেতারা এ-ও মনে করেন যে ১৪ দল থেকেও তাঁদের আলাদা হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির একসঙ্গে থাকার প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তাঁদের মতে, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জোটে থেকেই তাঁরা অতীতের মতো দলের নিজস্ব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে চান।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘আদর্শিক ঐক্যের ওপর ১৪ দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এক হয়েছিলাম। এখন কী করে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করি! ১৪ দলে থেকে বিরোধী দল হতে হবে, এটা স্পষ্ট নয়।’ তিনি আশা করেন, আওয়ামী লীগ বিষয়টি তাঁদের কাছে স্পষ্ট করবে। ফজলে হোসেন বাদশা আরো বলেন, একসঙ্গে থাকলে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য হতে পারে, সেটা নিজ দলেও হয়। তিনি বলেন, ‘বাজেটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অতীতে আমরা মতামত দিয়েছি। তার অর্থ সরকারি জোটে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন নয়।’      

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি কোণঠাসা হয়ে গেলেও তাদের সামাজিক ভিত এখনো মজবুত। সুযোগ পেলেই তারা আঘাত হানবে। তাই ১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা এখনো বিদ্যমান ও জীবন্ত। এখানে মন্ত্রিত্ব বড় কথা নয়, গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি। তিনি জানান, সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে আগেও তাঁরা মত দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও দেবেন, গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখতে চাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, খুবই স্বাভাবিক। কারণ এখানে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির রাজনীতি করার অধিকারই থাকে না। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে আমরা ১৪ দলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। ১৪ দলীয় জোট আছে। আর আমরা নিজ নিজ দলের কর্মসূচি বন্ধ রাখিনি।’

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৪ দলকে আওয়ামী লীগ রাখবে কি রাখবে না তা তাদের বিষয়। তবে আমরা যাঁরা ১৪ দলের শরিক তারা নিজ নিজ দলের কর্মসূচি অনুযায়ী চলি।’ 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা