kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

ড. কামাল বললেন

জামায়াত ছাড়তে চাপ দেওয়া যেতে পারে বিএনপিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামায়াত ছাড়তে চাপ দেওয়া যেতে পারে বিএনপিকে

বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল শনিবার বিকেলে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন যে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির ওপর তিনি চাপ প্রয়োগ করবেন কি না। জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আমার মনে হয় সেটা বলা যেতে পারে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ‘ভুল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন ড. কামাল। তিনি বলেন, ‘আমার কথা আমি বলি, যেহেতু আমি অলরেডি পাবলিকলি বলেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি, ভাই, এটা (জামায়াতের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া) তো আমার জানাই ছিল না। তখন ওরা বলল না যে জামায়াতের ২৫ জন না কত...। আমি যখন এখানে সম্মতি দিয়েছি সেটা আমাকে জানানো হয় নাই। আমার মতে সেটাও একটা ভুল করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপি যে জামায়াতকে সঙ্গে রাখবে সেটা তিনি জানতেন না।

মতিঝিলে পুরাতন ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভার পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তাতে বলা হয়, ‘তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্রুটি সংঘটিত হয়েছে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য একদম পরিষ্কার, জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি কখনো করি নাই। জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি কোনো দিন করার কথা চিন্তাও করি নাই। ভবিষ্যতেও এই ব্যাপারটি একদম পরিষ্কার। জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করব না।’

পাশে থাকা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু আরো পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট করেছি বিএনপির সঙ্গে, ২০ দলের সঙ্গে করি নাই। তার পরও জামায়াতের নাম যখন চলে আসছে, ২২ জন ওরা ধানের শীষের প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করেছে। তখন বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেলকে জানিয়েছি। তিনি (বিএনপি মহাসচিব) তাঁর দলের মিটিংয়ে তা উত্থাপন করেছেন। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, জামায়াত হিসেবে কাউকে আমরা দেইনি, আমরা সব ধানের শীষ হিসেবে দিয়েছি। আমরা বলেছি, অবিলম্বে এই ব্যাপারটা সুরাহা করার জন্য। অবশ্যই আমরা জামায়াতের ব্যাপারটার সুরাহা চাই। আমরা জামায়াতকে নিয়ে আগেও রাজনীতি করিনি, এখনো করি না, ভবিষ্যতেও করব না।’

যদি বিএনপি জামায়াতকে না ছাড়ে তাহলে কী করবেন, জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, “হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন। ‘যদি’ বলে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না। যখন হবে তখন বলব।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের দুজন নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের শপথগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে আলাপ করে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’

নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি দল ছাড়া আর কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেটা বলছে না। চাইলেও বলা সম্ভব না।’ এ সময় দেশের স্বার্থে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মহসিন মন্টু জানান, আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে জোরদার করতে অবিলম্বে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মন্তব্য