kalerkantho

৬৪ জেলার মাটির ঘ্রাণ শুভংকরের মানচিত্রে

জাদুঘর কর্মকর্তাদের পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬৪ জেলার মাটির ঘ্রাণ শুভংকরের মানচিত্রে

ফরিদপুরে ৬৪ জেলার মাটি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেছেন তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী শুভংকর পাল। তাঁর এ মানচিত্র জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করার জন্য গত বুধবার ফরিদপুরে যান তিন সদস্যের একটি কমিটির সদস্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাড়িতে মাটি দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি গড়েন কাকা দিলীপ কুমার পাল। কাকার সঙ্গে মাটির কাজে হাতেখড়ি শুভংকরেরও। হঠাৎ শখ হয় শুভংকর সাইকেলে দেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে দেখবেন। বাদ সাধলেন পল্লীচিকিৎসক বাবা নিহার রঞ্জন পাল। বাধা পেলে বুদ্ধি খেলে! দেশের ৬৪ জেলার মাটি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের মানচিত্র বানালে কেমন হয়। একসঙ্গে ৬৪ জেলার মাটি স্পর্শ করা যাবে। পাওয়া যাবে একসঙ্গে সারা বাংলার মাটির গন্ধও। এবার আর ‘না’ বলার উপায় থাকল না বাবার। অবশেষে সাইকেলে চড়ে দেশের ৬৪ জেলার মাটি সংগ্রহ করে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র তৈরি করেছেন তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী শুভংকর পাল। খবরটি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। মানচিত্রটি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করার জন্য গত বুধবার ফরিদপুরে আসেন তিন সদস্যের একটি কমিটির সদস্যরা। তাঁদের নিয়ে ফরিদপুরে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের উপকিপার মো. সিরাজুল ইসলাম। ওই দিন বিকেলে ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই মানচিত্রটি তাঁদের দেখানো হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের

উপপরিচালক এরাদুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা রহমান, এনডিসি হাসান হাফিজুর রহমান, জাতীয় জাদুঘরের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী কিপার শওকত ইমাম খান, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান, বিটিভির জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ বাবু ও মানচিত্র নির্মাতা শুভংকর পাল শুভ উপস্থিত ছিলেন। 

শুভংকরের নির্মাণ করা বাংলাদেশের মানচিত্র দৈর্ঘ্যে ২৮ ও প্রস্থে ১৮ ইঞ্চি। মানচিত্রটি রাখা হয়েছে কাচঘেরা একটি কাঠের বাক্সে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উপকিপার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘গত ১ জানুয়ারি মহাপরিচালক মহোদয় আমাকে আহ্বায়ক করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে মানচিত্রটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সে কারণে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্মিত মানচিত্রের উপাদানগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। এর চিত্র ধারণ করেছি। জেলা প্রশাসক ও নির্মাতার সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এসবের ভিত্তিতে আমাদের কমিটি একটি প্রতিবেদন পেশ করবে, যার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মানচিত্রটি অতুলনীয়। সারা দেশের মাটি স্পর্শ করার একটা অনুভূতি হয়। গত ২৫ অক্টোবর ২০১৮ আমি জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানাই মানচিত্রটি সংরক্ষণের। আমি আশা করি এই উদ্ভাবনী সৃষ্টি জাতীয় জাদুঘরে স্থান পাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জাদুঘরে মানচিত্রটির সংরক্ষণ চাই—যাতে দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থী মাটির বাংলাদেশকে সহজে দেখতে পারে।’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বারাংকোলা গ্রামের ছেলে শুভংকর পাল (২৩)। তাঁর মা অমৃতা পাল। দুই ভাইয়ের মধ্যে শুভংকর বড়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা