kalerkantho

সংবিধান সহনশীলতা ও সমঝোতার সমন্বয় দরকার

মোহাম্মদ জমির   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংবিধান সহনশীলতা ও সমঝোতার সমন্বয় দরকার

সবার আগে দেশের মঙ্গল। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনীতি বলেন আর ভোট বলেন, সব কিছুই দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য। এ জন্য আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘ভাল’র চর্চা জোরালো করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভাল’র চর্চা করার যে চেষ্টা বা কর্ম, তার একটা বড় প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনগুলোতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার বাংলাদেশের অন্য রকম তাত্পর্যপূর্ণ একটি নির্বাচন।

দেশের ‘ভাল’র জন্য কোন রাজনৈতিক দলের কর্ম কেমন, তার প্রতিফলন ঘটবে এই নির্বাচনে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ ঘটাতে হবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

এবারের নির্বাচনে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এই নির্বাচন নিয়েও দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনে উত্সব বিরাজ করছে। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে সুষুম ও নিরাপদ করা যায়, এ জন্য রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে অংশ নিতে সবাইকে সমান বন্দোবস্ত ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কেউ যেন আবার সুযোগ পেয়ে রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সেদিকেও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে লক্ষ রাখতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এ রকম ঘটনা যাতে আর না ঘটতে পারে, তার জন্য প্রশাসনকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো কোনো এলাকায় এ রকম ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই নির্বাচনে দেশীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণকাজ পরিচালনা করতে পারবে। তবে সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ সহযোগিতা করতে হবে। দেশীয় পর্যবেক্ষকরা যাতে করে ভালোভাবে সুযোগ পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যাতে নিরাপদে পর্যবেক্ষণ করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য প্রয়োজনে সরকারিভাবে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরেকটি বিষয়ে বলা বেশ জরুরি, সেটি হলো, আমাদের নির্বাচনে কেউ পরাজিত হলেই সহজ-স্বাচ্ছন্দ্য মনে মেনে নেয় না। কোনো পরাজয়ই আমরা সহজে মেনে নিই না। পরাজিত হলেই অন্যের দোষ-ত্রুটিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করি। বিজয়ীকে অবজ্ঞার পাশাপাশি তার সাফল্য ও যোগ্যতাকে সুস্থচিত্তে মেনে নিই না। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশন বা সরকারের প্রতি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অনাস্থার ঘোষণা দেয়। যেমনটি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় বিএনপি করেছিল। তারা বিজয়ী হওয়ার পরও বলল যে ভোট কারচুপি না হলে আরো বেশি ভোট পেতেন তাদের প্রার্থী।

সর্বশেষ বলতে চাই, আমাদের এবারের নির্বাচনটা অনেক অনেক তাত্পর্যপূর্ণ। এই নির্বাচনে তিন ‘স’-এর প্রতিফলন দেখতে চাই আমরা সবাই। প্রথমটি সংবিধান, দ্বিতীয়ত সহনশীলতা, তৃতীয়ত সমঝোতা। এই তিনের সমন্বয়ে একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে। এটি হতে পারলে দেশ আরো উন্নয়নের দিকে যাবে।

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত।

 

মন্তব্য