kalerkantho

সিরিজ জয়ে চোখ বাংলাদেশের

নোমান মোহাম্মদ, সিলেট থেকে   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিরিজ জয়ে চোখ বাংলাদেশের

সুরমার তিরতিরে জলের কাঁপন বাড়িয়ে বেজে ওঠে কিন ব্রিজের পাশের আমজাদের ঘড়ির ঘণ্টা। নিশুতির নৈঃশব্দে সেটি ছড়িয়ে দেয় কালের বার্তা। কত যুগ-যুগান্তর ধরে তা সিলেটের গর্ব! সিলেটের ঐতিহ্য!

চিত্রাপারের এক দুরন্ত তরুণও ব্যাট-বলের ঘণ্টা বাজিয়ে চলেছে দীর্ঘদিন! ৫৬ হাজার বর্গমাইলে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেড় যুগ ধরে। দেশের মাটিতে সেই ঘণ্টাধ্বনি হয়তো থেমে যাচ্ছে আজ। আমজাদের ঘড়ির ঘণ্টা বিকল হয়ে গেলে তা বিলেতি প্রযুক্তিতে আবার সচল করা যায় সত্যি। কিন্তু মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেটীয় ঘণ্টাধ্বনি কি আর সচল হবে কখনো বাংলার মাটিতে?

মহাকালের কাছে তোলা থাক সেই প্রশ্ন। আপাতত তাঁর সম্ভাব্য বিদায়টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশায় মগ্ন।

ওয়ানডে সিরিজে প্রত্যাশার পারদটা উঁচুতে থাকে বরাবর। ঘরের মাটিতে হলে তো কথাই নেই। আর প্রতিপক্ষ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন তা যেন ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। একদা বিশ্ব ক্রিকেটের প্রবল প্রতাপশালী দল তারা। কিন্তু চার বছর ধরে তারা জিততে পারেনি কোনো ওয়ানডে সিরিজ। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সর্বশেষ হারায় বাংলাদেশকে। এরপর ১২টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে আর ওঠেনি বিজয়ের ক্যালিপসো সুর। এর মধ্যে হারে ১১টিতেই। অথচ এ সময়কালে নিজেদের ১২ ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে আটটিই জেতে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে মাশরাফির দলকে তাই নিজেদের ফেভারিটের তকমা না দিয়ে উপায় ছিল কিভাবে!

কিন্তু আজকের শেষ ওয়ানডের আগে সেই সিরিজে ১-১ সমতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য তাই এটি সিরিজ জয়ের হাতছানি। আর বাংলাদেশের জন্য তা দলের অধিনায়ক ও ক্রিকেটীয় মহানায়কের সম্ভাব্য বিদায়টা রাঙিয়ে দেওয়ার মহা উপলক্ষ।

সিরিজ নির্ধারণী এ ম্যাচের ভেন্যুর সৌন্দর্যে মহামুগ্ধ দুই দলই। পাহাড়ের কোল কেটে লাক্কাতুরা টি এস্টেটের ভেতর তৈরি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ স্থাপনায় প্রকৃতির আপত্তি থাকতে পারে; কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমী-ক্রিকেটপ্রেমীর যুগলবন্দিদের মন নেচে ওঠাই স্বাভাবিক। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও এর প্রতিফলন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি যেমন বলে যান, ‘এ মাঠ অবশ্যই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা। সিলেট এমনিতেই সুন্দর। স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকাটাও খুব সুন্দর। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে অবশ্যই এটা অন্যতম সেরা।’ ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের কণ্ঠেও এর প্রতিধ্বনি, ‘এটি দারুণ সুন্দর স্টেডিয়াম। এর সৌন্দর্যে সত্যি খুব অবাক হয়েছি।’

বাংলাদেশের জন্য পরিসংখ্যানের এক পিছুটান এই ভেন্যুর রেকর্ড। এখানে একটি করে টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট খেলেছে স্বাগতিকরা। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের কাছে সে দুই ম্যাচেই হার। দুই খেলার কোনোটিতেই মাশরাফি ছিলেন না। কিন্তু সে রেকর্ড জানেন ঠিকই। তাতে অবশ্য পাত্তা দিতে রাজি নন, ‘আগের ম্যাচের কথা মনে করে লাভ নেই। কাল নতুন ম্যাচ। সিরিজে খুব কোণঠাসা অবস্থায় নেই। এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আমাদের ইতিবাচক খেলতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের সেরাটা খেলবে। আমরাও তা খেলতে চাই।’ তাতে ১৯ ওয়ানডেতে ১২ জয়ের বছরটা আরো ভালোভাবে শেষ করার প্রত্যাশাও খেলা করে তাঁর কণ্ঠে, ‘জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে ভালো হবে। প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলাম যে এ বছরের জয়ের শতকরা হার বেশ ভালো। এখন জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে।’

নিজেদের মাঠে খেলা হলেও এ উইকেট একরকম অজানা বাংলাদেশের। এ নিয়েও অবশ্য কোনো আগাম অজুহাত দাঁড় করাতে চান না মাশরাফি, ‘এটি আমাদের দেশ। আমাদের উইকেট। আমাদের কন্ডিশন। আমাদের সমর্থক। সব তো আমাদের পক্ষে থাকবে। এখানে ক্রিকেট খেলার এত সুযোগ পাইনি, তার মানে এই না যে সব বদল হয়ে যাচ্ছে। আমরা তাই মানসিকভাবে তৈরি আছি।’ উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে বলেও ধারণা করছেন তিনি। সেই উইকেটে একাদশে তিন পেসারের তত্ত্ব থেকে সরছে না বাংলাদেশ। তবে একাদশে কিছু অদল-বদল হওয়াটা অবধারিত। প্রথম দুই ম্যাচে তিনে নেমে ব্যর্থ ইমরুল কায়েস বাদ পড়তে পারেন একাদশ থেকে। সৌম্য সরকারকে টপ অর্ডারে তুলে আনা হবে। মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুনের ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। আর পেসার হিসেবে রুবেল হোসেনের জায়গায় ফিরতে পারেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

চিন্তা আছে অগ্রহায়ণের শিশির নিয়ে। টস জয়টা তাই হয়ে উঠতে পারে মহাগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়ই পারফরম্যান্স। সেটি যদি ঠিকঠাক করতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ভয় কী!

 

মন্তব্য