kalerkantho

নির্বাচনে প্রার্থিতা

বিচারপতির প্রতি অনাস্থা খালেদার আইনজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারপতির প্রতি অনাস্থা খালেদার আইনজীবীদের

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে করা তিনটি রিট আবেদনের ওপর তৃতীয় বেঞ্চে শুনানি করেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই বেঞ্চের বিচারপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

বিচারপতি জে বি এম হাসানের একক বেঞ্চে গতকাল দুপুরের পর শুনানির সময় ধার্য ছিল। কিন্তু আইনজীবীরা বিচারপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আদালত আগামী সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

দুপুর ২টায় ওই বেঞ্চে শুনানি শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী মৌখিকভাবে অনাস্থা জানান। শুনানির শুরুতেই তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আপনার আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা নেই।’ বিচারক তখন এ জে মোহাম্মদ আলীকে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা তো বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানাতে পারতেন।’ আইনজীবী তখন বলেন, ‘আমাদের কিছু করার ছিল না। আমরা দেখেছি যে দুপুর ২টায় এই আদালতে মামলার শুনানি হবে, যা বলার এই আদালতেই বলতে হবে।’

ওই পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘উনারা এ কথা এ আদালতে বলতে পারেন না। প্রধান বিচারপতিকে বলতে পারতেন।

কালক্ষেপণের কৌশল থেকে এই অনাস্থা জানিয়েছেন।’ জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা হলাম সংক্ষুব্ধ পক্ষ। আমাদের আর্জেন্সি বেশি। উনি তো রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। এ মামলায় উনার এত মাথাব্যথার কারণ কী? উনি ব্যক্তি মাহবুবে আলম হিসেবে দাঁড়াতে পারেন।’

বিচারক তখন বলেন, ‘উনি ব্যক্তি মাহবুবে আলম হিসেবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।’ তখন মোহাম্মদ আলী শুনানি না করার আরজি জানালে আদালত সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে বিভক্ত আদেশ দেওয়া বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি যিনি থাকেন তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো বিচারপতিকে দিয়ে একক বেঞ্চ গঠন হবে। এই বিচারপতি জ্যেষ্ঠ নন। তাই আমরা অনাস্থা জানিয়েছি।’

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিট আবেদনের ওপর গত মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ইসিতে আপিল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। পরে তাঁর পক্ষে রিট আবেদন করেন আইনজীবীরা।

 

মন্তব্য