kalerkantho

ভোটের ৫ দিন আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা আসছে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের ৫ দিন আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা আসছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা জারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এই প্রজ্ঞাপন জারি করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনাসভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে বৈধ অস্ত্র জমা গ্রহণ না করে প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বৈধ অস্ত্র জমা না নেওয়ার এমন নির্দেশনার বিষয়টি সমালোচিত হচ্ছিল। আবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই দেশের কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বৈঠকে সারা দেশের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সব বাহিনীর ইউনিটপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে একজন জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ‘আজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা। বৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে জমা দিতে হবে। তবে প্রার্থীরা যদি বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে চান, তাহলে তা পারবেন এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অস্ত্র জমা না নিয়ে তাঁদের হেফাজতে রাখার সুযোগ দিতে চান, তাও পারবেন। কারণ ওই সব ব্যক্তির জীবনের ওপর যদি হুমকি থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টরা এই সুযোগ দিতে পারবেন।’

এই বিষয়ে দুই-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে উল্লেখ করে এই জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কমিশন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে।’

গত ৯ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চট্টগ্রামে এখনো বৈধ অস্ত্র জমাদানের নির্দেশনা আসেনি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদে নির্বাচনের সময় বৈধ অস্ত্র জমা না নিলে সে ক্ষেত্রে সহিংসতা ঘটলে সেখানে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার একাকার হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা এমন আশঙ্কা করলেও পরবর্তী সময় নির্বাচন কমিশন বৈধ অস্ত্র জমা না নিয়ে শুধু প্রদর্শনী বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা পরবর্তী সময় পুনর্বিবেচনা করে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।

বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করে একজন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাঁরা আগে থেকেই বলে আসছিলেন; বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার একাকার হওয়ার সুযোগ দিলে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। অবশেষে নির্বাচন কমিশন অস্ত্রসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিল।

 

মন্তব্য