kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল

ব্যক্তি তারেকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যক্তি তারেকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই

বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করলেও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য কোনো বিশেষ নেতার প্রতি সমর্থন হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগকে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা একই সঙ্গে বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছাও তাঁর নেই।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের উদ্বেগ ও আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে সাতটি দাবির ব্যাপারে আমরা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। সাতটি দাবি হলো—বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাহী বিভাগ বা সরকার

গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাক্স্বাধীনতা ও রাজনীতির সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘যাঁরা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন তাঁদের আমি এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে—নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে যাব।’

ড. কামাল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাজ করে যাবে, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে দাবিগুলো আদায়ের জন্য আমরা এমন ব্যক্তি ও দলের সঙ্গে কাজ করব যারা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ এবং যারা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না। আমরা বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে সমাবেশ করব।

সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম একজন ড. কামাল বলেন, ‘আমি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সাত দফা দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছেছি। যার ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমরা কয়েকটি দল মিলে একটি ঐক্য গড়ে তুলেছি, সেটি শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায় করার জন্য। এ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে নয়। কারণ ঐক্য করেছি নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য।’

ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই ঐক্যের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি আগেও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। এখনো বলছি, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আমাদের ঐক্য নয়। আর একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই—নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমরা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে ঐক্য করেছি। সে লক্ষ্যে জনমত গঠনে কাজ করছি। কোনো ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে এই ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দল হিসেবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছি। ব্যক্তি তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সংসদে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে নানা মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে মন্তব্য করাটা প্রয়োজন মনে করছি না। কখনো প্রয়োজন মনে হলে তখন মন্তব্য করব। আর সংসদে তাঁরা অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করতেই পারেন।

সংবিধানের বাইরে কোনো দাবি মানা হবে না—আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, এই সংবিধান তো তারা সংশোধন করেছে। আগের সংবিধানে আমাদের দাবিগুলো ছিল। আমরা সংশোধনের আগের সংবিধানে যেগুলো ছিল সেগুলোই বলেছি।

দাবি মানা না হলে কর্মসূচি কেমন হবে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘জনমত গঠনের জন্য আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। বুধবার সিলেটে কর্মসূচি আছে। আমরা আপাতত সারা দেশে যে জনমত গঠন করব তার মাধ্যমে আশা করি দাবি আদায় হবে। তার পরও দাবি আদায় না হলে গভীরভাবে চিন্তা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

সরকারি দলের অনেকে বলছে যে ঐক্যফ্রন্ট ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘সরকারের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। চক্রান্ত যেটা দেখছে, এই শব্দগুলো কম ব্যবহার করাই ভালো।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এস এম আলতাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা