kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অবশেষে সৌদির স্বীকারোক্তি

খাশোগিকে হত্যা ‘মারাত্মক ভুল’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাশোগিকে হত্যা ‘মারাত্মক ভুল’

অবশেষে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করল সৌদি আরব। গতকাল সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবায়ের বলেন, এ হত্যাকাণ্ড ছিল ‘মারাত্মক একটা ভুল’। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেননি বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও গতকাল তুরস্কের একটি পত্রিকা দাবি করেছে, খাশোগি হত্যায় যুবরাজের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে পত্রিকাটি বলছে, খাশোগিকে হত্যার পর যুবরাজের কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তাকে চারবার ফোন করা হয়।

সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক খাশোগি গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে ছিলেন। বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন তিনি। শুরু থেকেই তুরস্কের অভিযোগ ছিল, খাশোগিকে কনস্যুলেট ভবনে সৌদি এজেন্টরা হত্যা করেছে। রিয়াদ শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও গত শনিবার জানায়, খাশোগি কয়েকজনের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আর ওই ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবের এ ব্যাখ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করলে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় গতকাল দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবায়ের স্বীকার করে নেন, খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সব কিছু উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই হত্যাকাণ্ড আমাদের জন্য অনেক বড় একটা ভুল।’ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যার পর খাশোগির লাশ কী করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ছাড়া সৌদি যুবরাজ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেননি বলেও দাবি করেন জুবায়ের।

গতকাল তুরস্কের সরকারঘেঁষা ‘ইয়েনি সাফাক’ পত্রিকায় খাশোগি হত্যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল কাদির সেলভি। তাঁর যেকোনো লেখার প্রতিই সবার বিশেষ নজর থাকে। বলা হচ্ছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান আজ মঙ্গলবার খাশোগি হত্যা নিয়ে যে বক্তব্য দেবেন, তার আভাস সেলভির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘খাশোগিকে সৌদি আরবের গুপ্ত ঘাতক স্কোয়াডের সদস্যরা শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এরপর তাঁর লাশ ১৫ টুকরা করেন সৌদি সেনাবাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহ মুহাম্মেদ আল-তুবাইগি। আর লাশ টুকরো টুকরো করার সময় তিনি গান শুনছিলেন।’ সেলভি লেখেন, ‘পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র আট মিনিটে। আর হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন সৌদি নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাহের আব্দুল আজিজ মুতরেব।’

সেলভি বলেন, ‘যুবরাজকে জবাবদিহির আওতায় না আনা পর্যন্ত এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত আমরা এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাজ বন্ধ করব না।’ সেলভি অভিযোগ করেন, খাশোগিকে হত্যা করার পর খুনিরা যুবরাজের কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা বদর আল-আসাকারকে চারবার ফোন করেছিল।

এদিকে গতকাল খাশোগির ছেলে সালাহকে ডেকে এনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজ। এ সময় তাঁরা খাশোগির মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন।

খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের ওপর কূটনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শুরুতে রিয়াদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হলেও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সৌদি আরব মিথ্যা বলছে।’ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো কিছুই এ হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করতে পারবে না। আমরা এ ঘটনার সর্বোচ্চ নিন্দা জানাই।’

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, তিনি এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দেবেন না। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হুমকি দিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি বাতিল করে দেবেন।

অবশ্য অনেক দেশ আবার সৌদি আরবের পাশেও দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে আছে মিসর, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা