kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উদ্বেগ

ফের সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফের সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুজন

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ৮, ২৮, ২৯, ৩১ ধারাগুলোকে নিবর্তনমূলক উল্লেখ করে এসব ধারার ব্যাপক অপব্যবহারের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘এই ধারাগুলো বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এই আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করতে পারে বলে আমরা মনে করি। তা ছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের ফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতিসহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও আমরা মনে করি।’

বিবৃতিতে এ আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটি পুনঃসংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুজন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে এই বিলে স্বাক্ষর না করে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়।

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, এর আগে তথ্য-প্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ছয় বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সেই আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানা পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি। বরং বাতিল হওয়া তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দচয়ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে।’

সুজন বলেছে, দেশের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা তথা বাক্স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে, সেখানে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সংগঠনটি মনে করে, এই আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করবে, নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা হরণ করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বোধ সৃষ্টি করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা