kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

পদোন্নতির জন্য খুনে নিষ্ফল, পরে ফল নিয়ে হাসপাতালে

আবু হাসান, ধামরাই (ঢাকা)   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদোন্নতির জন্য খুনে নিষ্ফল, পরে ফল নিয়ে হাসপাতালে

সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়ার পর মুমূর্ষু অবস্থায় গার্মেন্ট কারখানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁকে দেখতে ফল ও মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন অধস্তন এক কর্মকর্তা। পরে পুলিশের তদন্তে জানা গেল, এই অধস্তন কর্মকর্তাই নিজের পদোন্নতির পথ পরিষ্কার করতে হত্যা কিংবা গুরুতর জখম করিয়ে এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অফিস থেকে সরাতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বেঁচে যান এবং গ্রেপ্তার হলো অধস্তন কর্মকর্তাসহ হামলায় জড়িত তিনজন।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে ঢাকার ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় গত বুধবার সন্ধ্যায়। আহত গার্মেন্ট কর্মকর্তা হলেন ঢুলিভিটার কচমচ এলাকার পোশাক কারখানা স্নোটেক্স আউটার ওয়্যারের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আল মামুন। হামলায় মারাত্মক জখম হওয়ায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর জ্ঞান ফেরে। তাঁর শরীরে ক্ষতস্থানগুলোতে অনেক সেলাই দিতে হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত কারখানাটির সিনিয়র ম্যানেজার সাইফুর রহমান স্বপন, লাইন মেকানিক শামীম হোসেন ও চাকরিচ্যুত শ্রমিক রাসেদ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। এ হামলায় আরো কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করা হয়েছিল এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যার পর ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন স্নোটেক্স আউটার ওয়্যারের এজিএম আল মামুন। তাঁকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দুর্বৃত্তরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আল মামুন বাদী হয়ে ধামরাই থানায় অজ্ঞাত নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে ধামরাই থানার এসআই মলয় কুমার সাহা গতকাল শুক্রবার অভিযান চালিয়ে উপজেলার বড় চন্দ্রাইল এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে রাসেদকে আটক করেন। রাসেদ ওই কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিক। পরে রাসেদের দেওয়া তথ্য মতে, সিনিয়র ম্যানেজার ও ধামরাইয়ের উত্তর কেলিয়া গ্রামের সাইফুর রহমান স্বপন ও কারখানার লাইন মেকানিক বড় চন্দাইল গ্রামের শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সাইফুরের ইচ্ছা ছিল আল মামুনকে হত্যা অথবা ভয়ভীতি ও মারপিট করে সরিয়ে দিতে পারলে ওই পদে (এজিএম) তাঁর পদোন্নতি হবে।  এই লক্ষ্যে আল মামুনকে মারতে পারলে প্রথমে মেকানিক শামীমকে দুই হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তাঁকেও পদোন্নতি দেওয়ার আশ্বাস দেন স্বপন। এ কাজে ভেড়ানো হয় চাকরিচ্যুত শ্রমিক রাসেদকে। তাঁরা আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে মামুনের ওপর হামলায় চালান।

ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার সাহা জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

আহত আল মামুন বলেন, ‘আমাকে পেটানোর পর সহমর্মিতা দেখানোর জন্য সিনিয়র ম্যানেজার সাইফুর রহমান বিভিন্ন ধরনের ফল ও মিষ্টি নিয়ে আমাকে হাসপাতালে দেখতে এসেছিল। আমি তখনও বুঝতে পারিনি আমার শত্রুই আমাকে ফল ও মিষ্টি খাওয়াতে হাসপাতালে এসেছে।’

মন্তব্য