kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ শুরু

রোগ প্রতিরোধে গবেষণা বাড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রোগ প্রতিরোধে গবেষণা বাড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। বিএসএমএমইউয়ের উত্তর পাশে ৩ দশমিক ৪ একর জমির ওপর এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার শয্যার এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায়। ১৩ তলা ভবনে অত্যাধুনিক এই হাসপাতালে এক ছাদের নিচেই মিলবে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএমএমইউ ক্যাম্পাসে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ছাড়াও কনভেনশন সেন্টার, ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি ভবন এবং ডক্টরস ডরমেটরির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মানুষ যাতে সুস্থ থাকতে পারে সে জন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গবেষণা বাড়াতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিতে নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবেন সে আহ্বান আমি জানাই। আপনাদের আরো গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে এবং মানুষের যাতে রোগ না হয় সে ব্যাপারেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’ আর সে জন্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধুর একটি দুর্লভ ছবি উপহার দেওয়া হয়।  ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, এ বিশ্ববিদ্যালয় আরো উন্নত হোক। আমি আশা করি, আমাদের চিকিৎসকসমাজ গবেষণা করে চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি আশা করি।’

শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা, গবেষণার গুণগত মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিকিৎসাসেবাটা গ্রামপর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। প্রতিটি হাসপাতালে ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। মানুষকে যেন অহেতুক ঢাকা শহরে আসতে না হয়, জায়গায় বসে যেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পায় সে সুযোগ সৃষ্টির পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আমরা চাই দেশটা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলুক, আমরা সেটাই চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকে ধনী হয়েছেন। তাঁদের হাঁচি-কাশি হলে বিদেশে যেতে চান। আমি মনে করি, যাঁরা অনেক অর্থশালী বা সম্পদশালী, তাঁরা যদি বিদেশে যান, আমার আপত্তি নেই। আমার এখানকার যারা সাধারণ মানুষ, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তরা একটু জায়গা পাবে, চিকিৎসা করার সুযোগ পাবে।’

প্রতিটি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রতিশ্রুতি আবারও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। সিলেটের আইনও পাস হবে।’ মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পড়ালেখার মান ঠিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট অনেক মেডিক্যাল কলেজ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আদৌ কোনো পড়াশোনা হচ্ছে কি না? সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে, না রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে, সেটাও আমাদের দেখা দরকার। একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পারবে সেটা নজরদারিতে রাখতে। যাতে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন করতে চাই।’

‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতালে অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য কোরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল একটি গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক জুলফিকার রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মা ও শিশুর সব ধরনের সেবা এ হাসপাতালে এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এখন আমাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হয়। কিন্তু এখানে সব ধরনের রোগের জন্য আলাদা কেন্দ্র থাকবে। ফলে একটি জায়গাতেই সব সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’ তিনি জানান, নতুন এ হাসপাতালে সেন্টার ফর স্পেশালাইজড অটিজম অ্যান্ড মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কার্ডিও অ্যান্ড সেরিব্রো-ভাসকুলার সেন্টার, কিডনি সেন্টার এবং রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টারসহ আরো কয়েকটি সেন্টার থাকবে। হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাও পাওয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে বর্তমানে এক হাজার ৯০০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার ৪৫ শতাংশ দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সাত হাজার থেকে আট হাজার রোগী এবং আরো হাজারখানেক রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিয়ে থাকে।

এ হাসপাতালে ৩০ টাকার টিকিট কেটে যেসব রোগীর সেবা নেওয়ারও সক্ষমতা নেই, তাদের জন্য একটি তহবিল তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী দুই দফায় ১৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। গতকালের অনুষ্ঠানে আরো ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বক্তব্য দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা