kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

৬৭তে মুক্তিযোদ্ধার ১৮৬ কিমি পাড়ি

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৬৭তে মুক্তিযোদ্ধার ১৮৬ কিমি পাড়ি

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য

বয়স তাঁর ৬৭। মুক্তিযোদ্ধা। দূরপাল্লার সাঁতারে একের পর এক রেকর্ড করেছেন। সব শেষে একটি বিশ্ব রেকর্ড করার স্বপ্ন নিয়ে গত সোমবার তিনি পানিতে নামেন। অদম্য চেষ্টায় ৬১ ঘণ্টায় টানা ১৮৬ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তবেই তীরে উঠলেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য।

গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে মদন উপজেলার দেওয়ান বাজার ঘাটে পৌঁছার সঙ্গে তাঁর তিন দিনের ১৮৬ কিলোমিটার সাঁতার শেষ হয়। এ সময় নদীর দুই পারে হাজার হাজার জনতা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত  জানায়। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর ব্রিজের নিচ থেকে এই সাঁতার শুরু করেন। নেত্রকোনার মদন উপজেলা নাগরিক কমিটি ও শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভা যৌথভাবে এ সাঁতারের আয়োজন করে। নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

মুক্তিযোদ্ধা সাঁতারু ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর বৈশ্যপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি বিমানের এএনএস কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

১৮৬ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্যকে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর পর ময়মনসিংহের তারাকান্দা, ফুলপুর, ধোবাউড়া, নেত্রকোনার পূর্বধলা, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা সদর, আটপাড়া ও মদন উপজেলা পাড়ি দিতে হয়েছে। বৈশ্যের বিরামহীন সাঁতার দেখতে পথে পথে নদীর দুই পারে শত শত মানুষ ভিড় জমায়। ‘ক্ষিতীন্দ্র’ ‘ক্ষিতীন্দ্র’ চিৎকার করে উৎসাহ দেয় তারা।

মদন উপজেলার নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিক জানান, গুগল ম্যাপ ডেটায় দূরত্ব নির্ণয় করা হয়েছে। ক্ষিতীন্দ্র বৈশ্যের বয়স ও দৈর্ঘ্যের বিবেচনা করলে এই সাঁতার বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে বলে আমরা আশা করি। তিনি এই রেকর্ডকে গিনেস বুকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান। মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল হাসান জানান, বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তাঁকে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য