kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

প্রতিক্রিয়া

ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই

ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম, অধ্যাপক, বুয়েট

৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সম্পর্কে বলেছেন, ‘এতে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। কারচুপির সব দিক বন্ধ করেই এটি তৈরি করা হয়েছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিরোধিতা ও তর্ক-বিতর্ক বিষয়ে জানতে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। বুয়েটের এ অধ্যাপক ইভিএম তৈরির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. মাহফুজুল বলেন, ‘ইভিএমে ভোট কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। ভোটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট না দিলে ব্যালট আসবে না। কাজেই অন্য কেউ ভোটও দিতে পারবে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেই ভোটারের নাম, বয়স ও ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য প্রদর্শিত হবে। এর পরই ব্যালটপেপার আসবে। তখন ভোটার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কাজেই একজন ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিতে পারবেন না।’

ভোটে কারচুপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে দেখেছি, একজন বা কয়েকজন মিলে ব্যালটপেপারে ৩০০-৪০০ সিল মারে। কিন্তু ইভিএমে তা সম্ভব নয়। ভোট দিতে হলে ভোটারকেই কেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটার ছাড়া অন্য কারো ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

কারচুপির সব কৌশল বন্ধ করেই ইভিএম তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘ভোট কারচুপির যত কৌশল আছে, সবকিছু বন্ধ রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে। আগে ভোট কারচুপি হতো, আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হতো। ইভিএমে এসবের সুযোগ নেই। ভোট শুরুর পরই ভোটারের উপস্থিতিতে ভোট দিতে হবে। ভোটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট না দিলে সেটা সম্ভব হবে না।’

ইভিএম’র কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটা মেশিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন ভোটার ভোট সম্পন্ন করতে পারবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে আরেকটা মেশিনে ভোট ধারণ করতে হবে। যেমন—কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি ২০০০ ভোটার থাকে, সেখানে সাতটি ইভিএম মেশিন প্রয়োজন হবে। আর ভোটগ্রহণ শেষ হলে প্রিসাইডিং অফিসার সেটা তত্ত্বাবধান করবেন। প্রিসাইডিং অফিসারের একটা নম্বর থাকবে, তিনি ইভিএম মেশিনে লগইন করে সেই ফল প্রিন্ট করবেন। সঙ্গে সঙ্গে কোন প্রতীকে কত ভোট পড়েছে তা বেরিয়ে আসবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করতে তিন লাখের মতো মেশিন প্রয়োজন হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন মনে হয় সব করতে পারবে না। তবে এক-তৃতীয়াংশের মতো বা দেড় লাখের মতো মেশিন সংগ্রহ করতে পারবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা