kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

খালেদার আইনজীবীর দাবি

ঘষামাজার নথিতে সাজা হতে পারে না

মামলাটি রাজনৈতিক কালিমাযুক্ত

আদালত প্রতিবেদক   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘষামাজার নথিতে সাজা হতে পারে না

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল বকশীবাজারের বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে তাঁর গাড়িবহর ঘিরে নেতা-কর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি রাজনৈতিক কালিমাযুক্ত বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। তিনি বলেছেন, স্বাক্ষরবিহীন ও ঘষামাজা কাগজ দিয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানিতে এ কথা বলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ফৌজদারি মামলায় যদি স্বাক্ষরবিহীন, ঘষামাজা ডকুমেন্টের ওপর নির্ভর করে সাজা দেওয়া হয় তাহলে সব মামলার বিচার পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ ধরনের ঘষামাজা ও স্বাক্ষরবিহীন নথির ওপর নির্ভর করে সাজা দিতে পারেন না। যদি সন্দেহ জাগে যে আসামি দোষী না নির্দোষ—এ ধরনের একটা দোদুল্যমান অবস্থায় একজন হাইলি কোয়ালিফায়েড বিচারক হিসেবে আসামিকে খালাস দিতে পারেন। অশুভ ইঙ্গিত না থাকলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হতো না।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন দাবি করেন, খালেদা জিয়া কোনো টাকা অপব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে একের পর এক মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা দিয়ে তাঁকে ধাওয়া করা হচ্ছে। তিনি নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রিয় নেত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে একটা মামলা করলেন এত হালকাভাবে! আর ১৭ বছর পর মামলার প্রদীপ জ্বলে উঠল। কেন, কী উদ্দেশ্যে অশুভ ইঙ্গিত? অশুভ ইঙ্গিত যদি না থাকে তাহলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা হয় না।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘মামলায় রাজনৈতিক গন্ধ আছে। মামলাটি রাজনৈতিক কালিমাযুক্ত। আমাদের দেশে যখন যে ক্ষমতায় থাকে আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তারা ফায়দা লুটতে চায়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে এখনো অনেক বিচারক আছেন, যাঁরা আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে ন্যায়বিচার করেন। তাঁরা ইতিহাস হয়ে থাকবেন।’ তিনি বলেন, ট্রাস্টের একটা পয়সাও তছরুপ হয়নি। এই ট্রাস্টের সঙ্গে খালেদা জিয়া কোনোভাবেই জড়িত নন।

খন্দকার মাহবুব হোসেনের পর খালেদা জিয়ার আরেক প্যানেল আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি শুরু করেন। তিনি বলেন, জাল নথি তৈরি করে এই মামলা করা হয়েছে। রাজনীতি থেকে সরাতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

এরপর শুনানি মুলতবি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে অবশিষ্ট যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। একই দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির মামলাটিও যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে দুই মামলায় হাজিরা দিতে সকাল সাড়ে ১১টায় আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। ১১টা ৩৭ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি তুলে ধরেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর আদালত ১৫ মিনিটের জন্য চা পানের বিরতিতে যান। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পুনরায় যুক্তি তুলে ধরেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। ১টা ১৮ মিনিটে তাঁর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর ১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত যুক্তি তুলে ধরেন এ জে মোহাম্মদ আলী। বিকেল ৩টার দিকে খালেদা জিয়া আদালত ছেড়ে চলে যান।

খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবীর রিজভী, মির্জা আব্বাস প্রমুখ। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুর রেজ্জাক খান, সানাউল্লাহ মিয়া, মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরুজ্জামানসহ শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জন আসামি। অপর পাঁচ আসামি হলেন খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা