kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

উপজেলায় না থাকলে চাকরি ছাড়ুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উপজেলায় না থাকলে চাকরি ছাড়ুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে থেকে যথাযথভাবে মানুষকে সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, অন্যথায় তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিয়োগ দিই তখন অনেকেই আছেন যাঁরা কর্মস্থলে থাকতে চান না। বরং তাঁরা যেকোনো উপায়েই ঢাকায় থাকেন। যদি চিকিৎসকদের ঢাকাতেই থাকার ইচ্ছা হয়, তাহলে তাঁদেও সরকারি চাকরি করার প্রয়োজন নেই। রাজধানীতে বসে প্রাইভেট রোগী দেখে তাঁরা অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন। তাই তাঁদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়াই ভালো। আমরা তাঁদের স্থলে নতুন নিয়োগ দেব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাতটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং সমাপনী বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রেসসচিব ইহসানুল করিম।

শেখ হাসিনা মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরিতে মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকার দেশে বিপুলসংখ্যক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পাঁচটি সেনানিবাসে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেনানিবাসেও এই ধরনের মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করব।’

শেখ হাসিনা বলেন, এসব মেডিক্যাল কলেজে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদারকি করতে হবে। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ‘রোগী মারার ডাক্তার’ নাকি ‘রোগী বাঁচানোর ডাক্তার’ তৈরি হচ্ছে, তা তাদের দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁর সরকার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরো দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবার সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিখ্যাত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাস ও লেকচার অনুসরণ করার জন্য মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সুবিধা ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।’

দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ও ডাক্তাররা একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন সে জন্য শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশে বিদেশি ডাক্তারদের সুযোগ উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে আসেন তাহলে দেশের লোকদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না, এখানেই তারা বিদেশি চিকিৎসাসেবা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ডাক্তারদের আবাসন সমস্যার ব্যাপারে সরকার সংবেদনশীল। তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে চিকিৎসকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে উপজেলাগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’

অতীতে বিএনপি-জামায়াত সরকারের মতো পুনরায় কেউ যাতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে না পারে সে জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেয় এবং তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে পুনরায় তারা এগুলো বন্ধ করে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী দ্বীপ ও হাওর এলাকায় নৌ অ্যাম্বুল্যান্স চালু করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং এ জন্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট তৈরির সময় একটি তহবিল তৈরির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্রের তুলনায় চাহিদার চেয়ে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সংখ্যা কম। এ ক্ষেত্রে দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা সামান্য।

প্রধানমন্ত্রী খালি পেটে শিশুদের কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর ঝুঁকির মতো বিষয় এবং ওষুধ সেবনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে ডাক্তারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডাক্তাররা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ময়লা-আবর্জনা এখানে সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

পরে শেখ হাসিনা বান্দরবান সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর, খুলনার ফুলতলা, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এবং ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাতটি অ্যাম্বুল্যান্সের ডামি চাবি হস্তান্তর করেন।

কর্মকর্তারা জানান, জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্স সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো চলতি মাসেই হস্তান্তর করা হবে এবং এ ধরনের আরো ৩৮টি অ্যাম্বুল্যান্স আগামী মাসে হস্তান্তর করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে অ্যাম্বুল্যান্সগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা