kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

নির্বাচন নিয়ে সিইসি নির্দেশনা চাইলেন আওয়ামী লীগের

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্বাচন নিয়ে সিইসি নির্দেশনা চাইলেন আওয়ামী লীগের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে করবেন তাঁর নির্দেশনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।’ গতকাল বুধবার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে ৯ মিনিটের সূচনা বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে সিইসি দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই দিন সিইসি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলে বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সংলাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। জানা যায়, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে দেশে না থাকায় সংলাপে অংশ নিতে পারেননি।

সিইসি নুরুল হুদা বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, দল গঠন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার গঠনসহ তাঁর সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নিবেদিত নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন,  ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের, যা ছাত্র আন্দোলন হিসেবে আমরা জানি; তখনকার সফল নেতারা এখানে রয়েছেন। সত্তরের নির্বাচনসহ বহু অর্জন, বহুমুখী, গণমুখী সব আন্দোলন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ফসল।’

সিইসি বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের অনেকের অনুপ্রেরণায়, নির্দেশে, পরিচালনায় আমরা তরুণ সন্তানরা  বুকে গ্রেনেড ও কাঁধে অস্ত্র নিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।’

সিইসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন; কূটনৈতিক সাফল্যে বহু দেশের আনুকূল্য, সমর্থন অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেন, ১৯৭৩ সালে জাতিকে প্রথম সংসদ নির্বাচন উপহার দেন, স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় সরকার গঠন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধু।

নুরুল হুদা বলেন, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তাঁর নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, অর্জনের নানা তথ্যসহ সিইসি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেন।

সিইসি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রেকর্ড অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে জাতির জীবনে ‘কালো অধ্যায়ের’ সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগকে যে কঠিন সময় পার হতে হয়েছে, সে কথাও সিইসি তাঁর সূচনা বক্তব্যে তুলে ধরেন। জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বহু বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূলতা, ভয়ংকর সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দলকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সিইসি বলেন, ইসির আইন, বিধি-বিধানের প্রায় সব কটিই আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি করা। বর্তমান ইসি আজ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে, যা আওয়ামী লীগ সরকারই প্রদান করেছে।

সিইসি সংলাপে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে যাঁরা উপস্থিত আছেন তাঁদের অনেকের কাছ থেকে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা নেওয়া, দীক্ষা নেওয়া, অনুপ্রেরণা নেওয়া, পথ চলার দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করেছি। আজ ভিন্ন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে আপনাদের পরামর্শ, সুপারিশ, সহযোগিতা এবং সাহস পুঁজি করে কিভাবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারি তার নির্দেশনা গ্রহণ করার জন্য আজকের এই সংলাপের আয়োজন।’

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলায় গতকালের সংলাপে সিইসিকে সতর্কভাবে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতা ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমামসহ কয়েকজন নেতা এ পরামর্শ দেন। তাঁরা এই মর্মে সিইসিকে বলেন, ভবিষ্যতে কথা বলার বিষয়ে একটু সতর্ক হতে হবে। আপনার অনেক বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে, মিসকোট হতে পারে। এ জন্য আপনি যখন কথা বলবেন, এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কথা বলবেন।

সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা পেয়েছি। তবে সে সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা