kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান নেই

► বিশ্ব আমাদের পাশে আছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
► আরো কঠোর হতে মিয়ানমারের আচরণ দেখতে হবে : ইইউ রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান নেই

ফাইল ছবি

কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের খুব দ্রুত সমাধান দেখছে না বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। গতকাল বুধবার ঢাকায় আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন রাষ্ট্রদূত রেঞ্চে তেয়ারিংকের বক্তব্যে এমন আভাস মিলেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এক দিনে বা এক মাসে সমাধান হবে না। তবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের পাশে আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় দাঁড়িয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাজ করছি এবং ফলাফল দৃশ্যমান।’

এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও রাশিয়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আরিয়া বৈঠকে সবাই আনান কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশগুলোকে সমর্থন করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আরিয়া বৈঠকে চীন ও রাশিয়ার বক্তব্যে তাদের অবস্থানগত পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। আনান কমিশনের প্রতিবেদনকে সবার সমর্থন করার অর্থ তারা বাংলাদেশের সঙ্গেই আছে।

তবে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান রাতারাতি আসবে না ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এত সহজ নয়। শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে আমরা কাজ করছি। আমরা কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখছি না। ওই দুই দেশে (চীন ও রাশিয়া) আমরা বিশেষ দূত পাঠাব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের আপত্তিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনাই সম্ভব হতো না। এখন উন্মুক্ত আলোচনা হচ্ছে, সর্বসম্মত বিবৃতি আসছে। সবাই এ সংকটের সমাধান চায়।

এদিকে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠান ‘ডিকাব টকে’ বাংলাদেশে ইইউ ডেলিগেশন প্রধান ও রাষ্ট্রদূত রেঞ্চে তেয়ারিংক রোহিঙ্গা সংকটকে অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেন। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ইইউর মানবিক সহায়তাবিষয়ক কমিশনার ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছেন।

গত সোমবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইইউর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে ইইউ মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে।

আরো কঠোর ব্যবস্থা ইইউ নেবে কি না জানতে চাইলে রেঞ্চে তেয়ারিংক বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ বা এ ধরনের আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে দেশটি কী করছে তা দেখতে হবে। তবে তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো মিয়ানমারের কোনো সদিচ্ছা ইইউ দেখতে পাচ্ছে না।

মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উপায় বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন ও রাশিয়া দৃশ্যত এখনো দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে প্রস্তুত নয়। চীন, রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান বদলাতে ইইউয়ের কাজ অব্যাহত থাকবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা