kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেড ইন বাংলাদেশ শার্ট ও টুপিতে ট্রাম্পের শপথ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেড ইন বাংলাদেশ শার্ট ও টুপিতে ট্রাম্পের শপথ

‘বাই আমেরিকান, হায়ার আমেরিকান’—আমেরিকানদের চোখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক ভাষণের সবচেয়ে চুম্বক লাইন। অন্তত দর্শকদের তুমুল হাততালি সে কথাই ইঙ্গিত করে। নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্টের মূল কথাও ছিল এটিই—‘আমেরিকাকে আবার মহান বানাতে হবে।’ দেশের নাম জপ করলেও শপথের সময় তিনি নিজে পরে ছিলেন বাংলাদেশে তৈরি শার্ট। আর কলারে বাঁধা লাল টাইটি চীনে তৈরি। সমর্থকদের জন্য যে বিশেষ টুপি তৈরি করা হয়, দেদার বিক্রিও হচ্ছে, সেগুলোও ভিয়েনতনাম, চীন ও বাংলাদেশ থেকেই বানিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ট্রাম্পের নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও কাজের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে নানা বাণিজ্য চুক্তি থেকে বের হয়ে আসারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশে বানানো টুপি নিয়ে হতাশ ও বিরক্ত ট্রাম্পের সমর্থকরা।

কট্টর জাতীয়তাবাদের আলোকেই নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তিনি; বলেছিলেন মার্কিন বাজারে চীনের একাধিপত্য নিয়েও। নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁর বক্তব্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং চীনের সঙ্গে সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় তাঁর কথাবার্তা। ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পাল্টা সতর্কতা উচ্চারণ করে চীনের পররাষ্ট্র দপ্তর। সেই চীনের টাই গলায় বেঁধেই শপথ নেন ট্রাম্প।

নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের যুক্তরাষ্ট্রে  বাজার পাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় এক ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মেড ইন আমেরিকা শব্দগুচ্ছ আগে বেশ দেখা যেত, এখন আর দেখা যায় না।’ ‘শেষ কবে এটা দেখেছেন মনে করতে পারেন?’ এই কথাগুলো জুড়ে দিয়ে ট্রাম্পের একটি টিভি সাক্ষাত্কার দেখানো হয়, যেখানে ট্রাম্প বাংলাদেশে তৈরি শার্ট পরে গিয়েছিলেন। এ দুটি বিষয় নিয়েই তৈরি হয়েছিল বিজ্ঞাপন। সেই বাংলাদেশের তৈরি সাদা শার্ট পরেই গত শুক্রবার শপথ নিলেন ট্রাম্প।

তবে শার্ট বা টাইয়ের চেয়েও অনেক বেশি আলোচনায় ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক হিসেবে পরিচিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা লাল টুপি। কনকনে ঠাণ্ডার দিনে ট্রাম্পের অভিষেক ভাষণ যতটা উত্তাপ ছড়িয়েছে, ততটা ক্ষোভ ছড়িয়েছে এই টুপিগুলোও। সব টুপি ভিনদেশে তৈরি।

ক্ষুব্ধদেরই একজন ৪৪ বছর বয়সী রব ওয়াকার। স্ত্রীকে সঙ্গে করে জর্জিয়া থেকে রাজধানীতে আসেন প্রিয় নেতা ট্রাম্পের বত্তৃদ্ধতা শুনতে। পথে গাড়ি থামিয়ে কিনে নেন আমেরিকাকে আবার শ্রেষ্ঠ বানানোর প্রতিজ্ঞা লেখা টুপিটি। ‘নিশ্চয়ই এটি চীন বানায়নি’—এমন আশা নিয়ে টুপির ভেতরটা পরীক্ষা করে দেখছিলেন ওয়াকারের স্ত্রী ৩৬ বছরের অ্যাবি। খানিক পরেই চুপসে গেলেন চীন লেখা দেখে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শপথের দিন ওয়াশিংটনের রাস্তায় মাত্র ২০ ডলারে বিকোচ্ছিল ওই টুপিগুলো। এর বেশির ভাগই বাংলাদেশ, চীন বা ভিয়েতনামের কারখানাগুলোতে বানানো। ট্রাম্পের ওয়েবসাইটে থাকা টুপিগুলোর চেয়ে এগুলো সস্তা। ওয়েবসাইট থেকে কিনলে টুপিগুলোর দাম পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ ডলার।

অভিষেকের দিন টুপি কিনেছে ভাইবোন ভিক্টোরিয়া স্কট ও অ্যান্ড্রু স্কট। ভিক্টোরিয়ার ২৫ ডলার দামি টুপিটি বানানো হয়েছে চীনে, তা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই ১৩ বছরের এই কিশোরীর।

এক বছরের ছোট অ্যান্ড্রু তার টুপি পরীক্ষা করে উচ্চারণ করল ‘বাংকলাদেশ’। পাশে থাকা তার বাবা শুধরে দিয়ে বললেন, ‘তুমি কি বাংলাদেশের কথা বলছ?’

টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটনে এসেছেন ২৫ বছরের জশুয়া রোজার্স ও ২৮ বছরের এলিসা ইয়ং। তাঁদেরও মাথায় ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ টুপি। বললেন, ‘দেখেই কিনে ফেললাম।’ এটি কোথায় বানানো জানতে চাইলে টুপিটি পরীক্ষা করতে লাগলেন। একটু পর হতাশ হয়ে জানালেন, ‘ভিয়েতনাম।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা