kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

রাজনৈতিক বিভেদেই ভেস্তে যায় উদ্যোগ

আজিজুল পারভেজ   

৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



রাজনৈতিক বিভেদেই ভেস্তে যায় উদ্যোগ

কওমি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনৈক্য প্রকট। সারা দেশে গড়ে ওঠা প্রায় ১৫ হাজার মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে ১৯টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। একটির সঙ্গে আরেকটির কোনো সম্পর্ক কিংবা সমন্বয় নেই। একইভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কওমি মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্টরা বহুধাবিভক্ত। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পরে তা থেমে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বিধাবিভক্তির কারণে কওমি মাদ্রাসা পরিচালনাকারীরা সংগঠিত হতে পারে না। ফলে সরকারি স্বীকৃতি আদায়ও আর হয়ে ওঠে না।

কওমি মাদ্রাসাগুলো সাধারণত ব্যক্তি উদ্যোগে অঞ্চলভিত্তিকভাবে গড়ে ওঠা। এ কারণে যে মাদ্রাসা যার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় তার ইচ্ছানুসারেই চলে। অনেক মাদ্রাসা দেশের কয়েকজন ধর্মীয় বিশিষ্ট ব্যক্তির ধ্যানধারণার ওপর কার্যক্রম ঠিক করে। একজন নিয়ন্ত্রণকারীর অধীনে মাদ্রাসাগুলো সমন্বয়ের জন্য গড়ে উঠেছে একেকটি কওমি শিক্ষা বোর্ড। সারা দেশের স্কুল-কলেজগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভাগভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড আছে মাত্র আটটি আর আলিয়া মাদ্রাসাগুলো দেখভালের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আছে মাত্র একটি। কিন্তু কওমি মাদ্রাসাগুলো কেন্দ্র করে সারা দেশে ১৯টি কওমি শিক্ষা বোর্ড গড়ে উঠেছে। এর পরও সব মাদ্রাসা কওমি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আসেনি। এগুলো অঞ্চলভিত্তিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও আলেম নিয়ন্ত্রিত। বোর্ডগুলো নিজেদের মতো করে পাঠ্যক্রম তৈরি করে। তাদের নিজেদেরই কোনো অনুসরণীয় নীতিমালা নেই। এমনকি কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না।

দম্ভ, দ্বন্দ্ব, প্রভাব ও রাজনৈতিক কারণে বিভক্ত আলেমরা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কখনো কোনো একক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে চলছে বিশৃঙ্খলা। বিষয়টি স্বীকার করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার জন্য একক কোনো নীতিমালা না থাকায় এই শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি। এ ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকার আমলের শেষ দিকে একটি ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের ধারণা, চারদলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতার কারণে এই উদ্যোগ সফল হয়নি। কারণ কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টরা কট্টরভাবে মওদুদি দর্শন তথা জামায়াতবিরোধী। এ কারণে জামায়াতে ইসলামী চায়নি তাদের আরেকটি প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিন আগে কওমি মাদ্রাসাশিক্ষার স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুসারে ‘কেবল মাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আরবি সাহিত্য এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে শিক্ষকতা, কাজির দায়িত্ব/মসজিদে ইমামতির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের কওমি মাদ্রাসার দাওরা ডিগ্রি এমএ (ইসলামিক স্টাডিজ/আরবি সাহিত্য) ডিগ্রির সমমানের হিসেবে বিবেচিত হবে...।’ প্রজ্ঞাপনে সব কওমি মাদ্রাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বিএনপি ক্ষমতা হারালে এই প্রজ্ঞাপন আর কার্যকর হয়নি।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালে কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিনিধিদল করা হয়। প্রথমে ২৫ সদস্য এবং পরে ৬২ সদস্যের ওলামা-মাসায়েখদের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির দাবি জানায়। ৬২ সদস্যের প্রতিনিধিদলে এ দেশের শীর্ষ দুই আলেম শায়খুল হাদিস আজিজুল হক ও আল্লামা আহমদ শফী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলেমদের দ্বন্দ্বের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারা চার-পাঁচ ভাগে বিভক্ত। আপনাদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কয়েকবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, কিন্তু আপনাদেরই আরেক পক্ষ এতে বাধা দেয়।’ পরে প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট পেশ করার পর কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়। কওমি মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণকারী সবচেয়ে বড় সংগঠন বেফাক (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ) কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে। বেফাকের বক্তব্য, সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি নেওয়া হলে কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হবে। এমনকি ২০ দলীয় জোটসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এবং বেফাকসংশ্লিষ্ট একজন নেতা এই শিক্ষানীতি এবং এর আলোকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে রাজপথে লাশ পড়বে বলে হুমকি দেন। এরপর কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হলেও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সম্প্রতি সরকার আবার কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির উদ্যোগ নিয়েছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের আলোকেই কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির জন্য আইনের খসড়া করা হয়েছিল। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক তা কার্যকর করা যায়নি। এখন সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই আইনটির আর কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, সেটা দেখার জন্য কওমি মাদ্রাসার বিজ্ঞ আলেমদের নিয়েই কমিটি করা হয়েছে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এবারও স্বীকৃতির পক্ষে-বিপক্ষে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই নানা কর্মসূচি পালন করছে। বেফাকের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বেফাককেই বোর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পরে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী দেওবন্দের আলোকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতার বিষয়টি রাজনৈতিক। আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি নেওয়া হলে কওমিসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ২০ দল ঘনিষ্ঠ কওমিসংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাসনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, বেফাকের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটি পক্ষ রাজনৈতিক হাতিয়ার ঠিক রাখার জন্য কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে। ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের পছন্দের সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি নেওয়ার জন্যই নানা অজুহাতে বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, বেফাকের পক্ষ সরকারি স্বীকৃতির বিরোধিতা করে বেফাককেই স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অথচ বিএনপি সরকার যখন নতুন কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের কথা বলেছিল এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণেই সেটি করার কথা ছিল তখন তো তাঁরা কোনো বিরোধিতা করেননি। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা কালক্ষেপণ এবং সরকারকে বিরক্ত করার জন্যই নানা অজুহাত তুলছেন।

কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতির সঙ্গে স্বকীয়তার কোনো সম্পর্ক কিংবা বিরোধ নেই। স্বীকৃতি দিলেই স্বকীয়তা নষ্ট হবে ভাববার কোনো কারণ নেই। ধর্মীয় স্বকীয়তা থাকতেই হবে। দারুল উলুম দেওবন্দের আট মূলনীতি অটুট রেখেই নীতিমালা তৈরি করে স্বীকৃতি নিতে হবে। দেওবন্দের আলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিভ্রান্তিমূলক। দেওবন্দ কওমি ধারার শিক্ষাব্যবস্থার কোনো স্বীকৃতি ভারতেও নেই। তবে সনদের মানের স্বীকৃতি আছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। উত্তর প্রদেশের আলিগড় মাদ্রাসা ও দিল্লির জামেয়া বিল্লিয়াতে কওমি শিক্ষার্থীরা দাওরা হাদিস (কামিল) পাস করে অনার্সে ভর্তির সুযোগ পায়। অথচ আমাদের সরকার দাওরা হাদিসকে (কামিল) মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়েছে। এখন দেওবন্দের আলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো মানে কী আরো পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া নয়?’

এ ব্যাপারে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে বেফাকের সহকারী মহাপরিচালক শাইখুল হাদিস অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবির পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। বেফাকের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষাই আমাদের স্বার্থ। সরকার শুধু সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি দেবে, কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, এটাই চাই। এ জন্য প্রয়োজনে বেফাক ও আঞ্চলিক বড় চারটি বোর্ড মিলে যদি আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে একটি বোর্ড হয় তাহলেও আমাদের আপত্তি থাকবে না।’

কেন প্রয়োজন কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি : মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, প্রায় ১৫ হাজার কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী রয়েছে ২০ লাখ। অথচ তাদের শিক্ষার কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা তো মানবিক ও জন্মগত অধিকার। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাদ রেখে জাতীয় উন্নয়ন কী সম্ভব? তিনি আরো বলেন, কওমি ধারায় শিক্ষিত বিপুলসংখ্যক মাওলানা বিদেশে গিয়েও মর্যাদা পাচ্ছেন না স্বীকৃতির অভাবে। এই অমর্যাদাকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এই শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি জরুরি প্রয়োজন। স্বীকৃতির বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করছে। জামায়াত-শিবির প্রভাবান্বিত সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি নেওয়ার জন্য, তাদের প্রভাবেই বিরোধিতা করছে। অথচ বেফাকের অধীন ৮০ শতাংশ মাদ্রাসাসহ সবাই এখন স্বীকৃতির পক্ষে।

মাদ্রাসা শিক্ষা সনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বীকৃতি এ দেশের লাখ লাখ ধর্মীয় শিক্ষার্থীর নাগরিক অধিকার। কওমি শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—মসজিদ, মাদ্রাসাগুলো আজ মওদুদিবাদীদের দখলে। তারা সমাজে বিভেদ তৈরি করছে। অথচ কওমি ধারায় শিক্ষিতরা সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গার (কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গওহরডাঙ্গার) চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি সব থেকে বেশি প্রয়োজন আমার। কারণ আমি যাদের প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের ভবিষ্যৎ কওমি সনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সনদের স্বীকৃতি না থাকার ফলে লুকিয়ে লুকিয়ে কওমির ছেলেরা স্কুল, কলেজ ও আলিয়া থেকে পরীক্ষা দিয়ে সনদ নেয়।’

মিরপুর রূপনগরের মাদ্রাসায়ে নূরিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার সদরুল মোদাররেসিন (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা আবু সুফিয়ান যাকী বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি খুবই জরুরি। স্বীকৃতি দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা দেশের কল্যাণে, ইসলামের কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে।