kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

স্যান্ডার্সকেও পেয়েছেন হিলারি ট্রাম্পের পক্ষে মাঠে স্ত্রী-কন্যা

এবার হিলারি ট্রাম্প সমান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



এবার হিলারি ট্রাম্প সমান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে লড়াইটা যে তুমুল হবে, তা এখন প্রায় সব জরিপই বলছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার বিবিসির জরিপ জানিয়েছে, হিলারি ও ট্রাম্প এখন সমান সমান অবস্থানে। উভয় প্রার্থীর পক্ষেই ৪৫ শতাংশ মার্কিনির সমর্থন রয়েছে। অবশ্য অন্য কয়েকটি জরিপ বলছে, ট্রাম্পের চেয়ে কয়েক পয়েন্ট এগিয়ে হিলারি।

আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করে বৈতরণী পার হতে উঠেপড়ে লেগেছেন প্রধান দুই প্রার্থীই। হিলারির পক্ষে শেষ বেলায় মাঠে নেমেছেন তরুণ ভোটারদের পছন্দের নেতা বার্নি স্যান্ডার্সও; যিনি এই নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আর ট্রাম্পের পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন তাঁর স্ত্রী সাবেক মডেল তারকা মেলানিয়া ট্রাম্প ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প।

২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট জয়ের দৌড়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান খ্যাত ১১টি রাজ্যের দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দুই শিবিরের। কয়েক দিন ধরেই এসব রাজ্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন হিলারি ও ট্রাম্প। এই রাজ্যগুলো থেকে যিনি বেশি ইলেকটোরাল ভোট টানতে পারবেন, তিনিই পাবেন হোয়াইট হাউসের চাবি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস পরিচালিত ‘স্টেটস অব দ্য ন্যাশন’ জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দুই প্রার্থী সমান অবস্থানে রয়েছেন। গত সপ্তাহে দোদুল্যমান কয়েকটি রাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে যাওয়ায় হিলারির সঙ্গে তাঁর ব্যবধান কমে এসেছে। মিশিগানে হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান অনেকখানি কমেছে। অন্যদিকে পেনসিলভানিয়ায় জনসমর্থন হিলারির দিকে ঝুঁকছে।

দেশটির বড় দুই দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর জনমত জরিপগুলোয় হিলারি প্রায় সব সময়ই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই হিলারির ই-মেইল বিতর্কের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প ব্যবধান কমিয়ে আনতে শুরু করেন। ট্রাম্পের এখন নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনা উভয় অঙ্গরাজ্যে জয়লাভ করলে তাঁর হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।

সর্বশেষ জরিপে হিলারি ২৫৬টি সলিড ইলেকটোরাল ভোট এবং মোট ৩০২ ভোট জয়ের সম্ভাবনার ফল পাওয়া গেছে, ট্রাম্প ২৩৬ ভোট পেতে পারেন। যেখানে গত সপ্তাহের জরিপে হিলারির ২৭৮টি সলিড ইলেকটোরাল ভোট এবং মোট ৩২০ ভোটে জয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের ২১৮ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। সে হিসাবে যেকোনো দিক দিয়েই গত সপ্তাহ থেকে ট্রাম্প নিজের অবস্থান উন্নত করেছেন।

রয়টার্সের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ২৪টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের সমর্থক বেড়েছে, কমেছে ১১টি অঙ্গরাজ্যে। অন্যদিকে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে হিলারির সমর্থন বেড়েছে, কমেছে ২২টিতে।

এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপমতে, হিলারি ৪৭ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। সিএনএন ও ওআরসির জরিপে হিলারি ৪৯ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজের জরিপে হিলারি ৪৫ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪২ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। গত সপ্তাহে সব জনমত জরিপ মিলিয়ে গড়ে ৪ থেকে ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। কিন্তু এ সপ্তাহের জরিপে হিলারি-ট্রাম্পের ব্যবধান কমে সমান সমান বা ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার হিলারি ও ট্রাম্প দুজনই প্রচারণা চালান নর্থ ক্যারোলাইনায়। সেখানে প্রচারসভায় পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিনদের স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। আর হিলারি আবারও ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ‘অযোগ্য’ উল্লেখ করে ভোটারদের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

নর্থ ক্যারোলাইনায় আফ্রিকান-আমেরিকান ও তরুণদের সামনে প্রথমবারের মতো হিলারির মঞ্চে উঠে তাঁর পক্ষে ভোট চাইলেন বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি মাঠে নামায় ডেমোক্র্যাট শিবিরে আরো আশার সঞ্চার হয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রানিংমেট টিম কেইনও সুইং স্টেটগুলোয় হিলারির পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিপরীতে ট্রাম্প একাই বেশির ভাগ রাজ্যে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও তাঁর রানিংমেট মাইক পেন্সকে দেখা গেলেও রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বা ডাকসাইটে কোনো নেতাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার পেনসিলভানিয়ায় তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। একই দিন প্রথমবারের মতো নিউ হ্যাম্পশায়ারে বাবার পক্ষে ভোট চাইতে যান ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা।

হিলারির সঙ্গে মঞ্চে উঠে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘এটা ব্যক্তিগত কোনো প্রতিযোগিতা নয়। আমরা কোনো হাই স্কুলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করছি না। আমরা বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছি।’ ট্রাম্পের সমালোচনা করে স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা কোনো গোঁড়ামির সমাজে ফিরে যেতে পারি না।’

ট্রাম্প বরাবরই অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য দিলেও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া পেনসিলভানিয়ার সমাবেশে নিজেকে একজন অভিবাসী উল্লেখ করে সব জনগোষ্ঠীর প্রতি রিপাবলিকান পার্টিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একজন অভিবাসী হয়েও আমি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। এটাই এই দেশের মূল্যবোধ। ট্রাম্প সত্যিকার অর্থে দেশকে অনেক ভালোবাসেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে সব জনগোষ্ঠীর জন্যই ভালো হবে। আর আমি ফার্স্ট লেডি হলে সামাজিক গণমাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করে এর উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করব।’

ভোটে জয়ের আশা প্রকাশ করে মেলানিয়া বলেন, ‘৮ নভেম্বর আমরা অবশ্যই জিতব এবং আমেরিকান হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। মতভিন্নতা থাকলেও আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করব।’

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সমাবেশে ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা বলেন, ‘নারীদের বিষয় হচ্ছে চাকরি, নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা। নারীদের বিষয়গুলোই এখন এ দেশের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব রাখছে।’

একই দিন নর্থ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডায় জনসভায় অংশ নিয়ে নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা আবারও ক্ষমতায় এলে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে—এ আশঙ্কা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, হিলারি জনগণকে রক্ষার চেয়ে, নিজেকে রক্ষার কথা বেশি ভাবেন। আর তাই রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল থেকে চালাচালি করার মতো বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ করতেও দ্বিধা করেননি। আপনারা সবাই ৮ নভেম্বর ভোট দিতে আসবেন। শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে আমাদের দখলেই আসবে।’

একই দিন নর্থ ক্যারোলাইনায় প্রচারে অংশ নিয়ে হিলারি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো যোগ্যতা ট্রাম্পের নেই। যে ব্যক্তি নারীদের অবমাননা করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, যে ব্যক্তি কর ফাঁকি দেন, আমার বিশ্বাস, তাঁকে কোনোভাবেই হোয়াইট হাউসে পাঠাবে না আমেরিকার জনগণ।’ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’  

বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় নির্বাচনী সভায় বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ওবামা হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে দেশকে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে মার্কিনদের প্রতি আহ্বান জানান। ওবামা বলেন, ‘হিলারি একজন কর্মব্যস্ত মানুষ। তিনি জনস্বার্থে অনেক কাজ করেছেন। এই নির্বাচনের অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে হিলারি সবদিক বিবেচনায় অধিক যোগ্য।’