kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

গুপ্তহত্যার নেপথ্যে সেই জিয়া!

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুপ্তহত্যার নেপথ্যে সেই জিয়া!

২০১২ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক এখন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সামরিক কমান্ডার। গোয়েন্দাদের দাবি, পলাতক জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে একের পর এক ব্লগার-লেখকসহ প্রগতিশীল লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে। যদিও আল-কায়েদার বাংলাদেশ শাখা দাবি করে ব্লগার হত্যার দায় স্বীকার করছে ‘আনসার আল ইসলাম’। তবে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামেই আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে মনে করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন চুপচাপ ছিলেন জিয়া। পরে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন জঙ্গি তৎপরতায়। ঢাকায় অবস্থান করেই তিনি সংগঠনকে সক্রিয় করছেন। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছে কয়েকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন ওই সব গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পলাতক জিয়ার নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়ে নতুন নামে আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা হিসেবে ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন এবিটি আরো হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে তথ্য মিলেছে। কার্যত জিয়াকে ধরতে পারলেই এবিটি অনেকটা নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়বে বলে আশা করছেন গোয়েন্দারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জঙ্গি দমনসংক্রান্ত সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মেজর (বরখাস্ত) জিয়া দেশে থেকেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে তথ্য রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আনসারুল্লাহর মাধ্যমেই ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ধরা পড়া সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জিয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশে এখনো দুই শতাধিক এবিটি সদস্য সক্রিয়। তারা সবাই ‘সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’। হত্যার কাজে তারা চাপাতি ব্যবহার করলেও তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকারও প্রমাণ মিলছে। সর্বশেষ রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চাপাতি ব্যবহার করলেও তাদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক পিস্তল।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রমতে, ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান জিয়া। শুরুর দিকে ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কয়েক দিন আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। এরপর কখনো চট্টগ্রাম, কখনো রাঙামাটি, কখনো টেকনাফ-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পালিয়ে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান বরখাস্ত হওয়া এই সেনা কর্মকর্তা। গোয়েন্দা সংস্থার কাউন্টার সার্ভিল্যান্সের বিস্তারিত কৌশল তাঁর জানা থাকায় এখনো তিনি নিজেকে আড়ালে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যমতে, একসময় ঢাকার বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে ছিলেন জিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাওহীদের নেতাকর্মীদের বাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের মেস, এমনকি বস্তিতেও থেকেছেন তিনি। সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জিয়া সাত দিন আত্মগোপনে ছিলেন মধ্যবাড্ডার এক বাসায়। ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে হিযবুত তাহ্রীর সদস্য আহমেদ রফিক তাঁকে আশ্রয় দেন। আহমেদ রফিক মধ্যবাড্ডার একটি বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে সপরিবারে বসবাস করতেন। রফিকের পরিবারের সদস্যরা এর আগে জিয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছিল কালের কণ্ঠকে। রফিকের মা লিলি বেগম জানিয়েছিলেন, ২০১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন জিয়া। তিনি রফিকের কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন।

জিয়াকে ধরতে না পারার পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, জিয়াকে ধরতে তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে গোয়েন্দাদের মধ্যে এমন ধারণাও সৃষ্টি হয়েছে যে জিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার ভালো সম্পর্ক আছে। কয়েকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামিদের অনেকেই জিয়াকে সহযোগিতা করছেন।



সাতদিনের সেরা